দীর্ঘ ৮ বছর ধরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে কাজ করার পর এবার অবসরে যাচ্ছে তিনটি প্রশিক্ষিত কুকুর ফিন, কোরি এবং স্যাম। বয়সের কারণে তাদের কর্মক্ষমতা হ্রাস পাওয়ায় ডিএমপি কর্তৃপক্ষ এই তিন কুকুরকে নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ডিএমপি’র লজিস্টিকস শাখা থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগামী ২৫ নভেম্বর মিরপুর-১৪ পুলিশ লাইন্সের ক্যানাইন ইউনিট প্রাঙ্গণে এই নিলাম অনুষ্ঠিত হবে। ব্যবসায়ী, চুক্তিকারী এবং বিশেষত কুকুরপ্রেমীদের এই নিলামে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
নিলামে ওঠা কুকুর তিনটির মধ্যে দুটি ল্যাব্রাডর এবং একটি জার্মান শেফার্ড। তিনটি কুকুরেরই জন্মস্থান যুক্তরাজ্য।
- ফিন: পুরুষ ল্যাব্রাডর (জন্ম: ২০১৭ সালের ১০ মার্চ)
- কোরি: স্ত্রী ল্যাব্রাডর (জন্ম: ২০১৭ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি)
- স্যাম: পুরুষ জার্মান শেফার্ড (জন্ম: ২০১৭ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি)
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ দমনে বিস্ফোরক ও বিপজ্জনক বস্তু শনাক্তকরণের জন্য ডিএমপি ১০টি কুকুর নিয়ে বিশেষায়িত ক্যানাইন ইউনিট (কে-৯) গঠন করে। যুক্তরাজ্য থেকে আনা এই কুকুরগুলো সিটিটিসি’র স্পেশাল অ্যাকশন ইউনিটের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে। প্রশিক্ষিত এই কুকুরগুলো ইংল্যান্ডের আধুনিক প্রশিক্ষণ পদ্ধতি অনুসরণ করে আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ পেয়েছিল। ডিএমপির পাঁচজন কর্মকর্তা যুক্তরাজ্য থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে এসে কুকুরগুলোকে প্রশিক্ষণ দেন।
যদিও ডিএমপি’র দরপত্র বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বর্তমানে ফিন, কোরি ও স্যাম—এই তিনটি কুকুরই সুস্থ আছে। তবে প্রজাতিভেদে তাদের বয়সকে গুরুত্ব দিয়ে অবসরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সিটিটিসি’র স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপের বোম ডিসপোজাল ইউনিটের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) নাজমুল হাসান সংবাদ মাধ্যমকে জানান, পশুপ্রেমী অনেকেই প্রশিক্ষিত কুকুর কেনেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দায়িত্ববান ব্যক্তিরাই কুকুরগুলো কিনে তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করবেন।
ল্যাব্রাডর এবং জার্মান শেফার্ডের মতো বড় জাতের কুকুরগুলোকে সাধারণত ৬ থেকে ৮ বছর বয়সেই বয়স্ক হিসেবে ধরা হয়। বয়স বাড়ার সাথে সাথে এদের মধ্যে গাঁটের ব্যথা, স্থূলতা এবং ক্যানসারের মতো নানা ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দেওয়ার ঝুঁকি থাকে।









