কোনো সংগঠনের ব্যানারে নয়, সম্পূর্ণ ব্যক্তি উদ্যোগে মিলিত হয়ে টিভি নাটকের একদল পরিচালক বন্যার্তদের পাশে থাকতে এগিয়ে এসেছেন।
তারা নিজ উদ্যোগে ট্রাক ভর্তি করে বন্যার্তদের খাবার পাঠাচ্ছেন। মোট তিন দফায় তারা বন্যায় ডুবে থাকা ফেনী, নোয়াখালী, চট্টগ্রামের মিরসরাই এলাকায় ১০ হাজার বন্যার্তদের শুকনো খাবার, স্যালাইন, বিশুদ্ধ পানি, আলু, তেল, চাল, ডাল, চিড়া, মুড়ি বিতরণ করেছেন।
শনিবার রাতে নগরীর কারওয়ান বাজার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ট্রাক ভর্তি করে শুকনো খাবার পাঠাচ্ছেন নাট্য নির্মাতারা। তাদের মধ্যে ছিলেন মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ, তুহিন হোসেন, সকাল আহমেদ, সাজিন আহমেদ বাবু, সেতু আরিফ, ইমেল হক, রাফাত মজুমদার রিংকু, রাসেল আহমেদ, বিকাশ সাহা, মোহন খান।
নির্মাতারা জানান, তারা বন্যা দুর্গত এলাকায় যাচ্ছেন, বানভাসিদের পাশে থাকছেন। তিন বারে তিন এলাকায় ১০ হাজার মানুষদের তারা খাবার দিয়েছেন। শুধু খাবার নয়, বন্যাকালীন নিত্য প্রয়োজনীয় যা যা প্রয়োজন তারা সরবরাহের চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
মোস্তফা কামাল রাজ বলেন, যেভাবে সারাদেশের মানুষ এখন এক হয়েছেন, আশা রাখছি আমরা সব ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলা করতে পারবো। শুধু বন্যার মতো দুর্যোগ নয়, যে কোনো প্রয়োজনে আমরা সবসময় নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়ে মানুষের পাশে আছি।
রবিবার দুপুরে ফেনীর দাগনভূঞা এলাকায় ত্রাণ দিচ্ছিলেন এসব নির্মাতারা। সেখান থেকে মুঠোফোনে সাজিন আহমেদ বাবু চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ১২ জন রয়েছি। দাগনভূঞা উপজেলা থেকে ৭ কিলোমিটার ভিতরে পানির মধ্য থেকে এদিকে একটি বড় বিল্ডিংয়ে এসেছি।
তিনি বলেন, এখানে ৭০০ মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। তারা অনেক কষ্টে রয়েছেন সেগুলো নিজ চোখে না দেখলে আমাদের বিশ্বাস হতো না। আমরা তাদের হাতে ত্রাণ তুলে দিচ্ছি। পানি কম বেশি বোঝা যাচ্ছে না তবে যতটা ভিতরে যাওয়া যায় আমরা শেষ মাথা পর্যন্ত যাওয়ার চেষ্টা করছি।
তুহিন হোসেন বলেন, মানুষের কষ্ট দেখে অনেক মায়া লাগছে। একটি আশ্রয় কেন্দ্রে দেখলাম গর্ভবতী ও নবজাতকদের রাখা হয়েছে। সেখানে আমরা দুধ সরবরাহ করেছি। তবে এখানে এসে বুঝেছি, মানুষ সত্যি সত্যি মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়াচ্ছেন, বিপদ মোকাবিলায় সবাই এক।









