দেশের সবচেয়ে বড় আর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রভাবশালী চলচ্চিত্র উৎসব বলা হয় ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবকে (ডিফ)। আসছে জানুয়ারির ১০ তারিখে পর্দা উঠতে চলেছে এই উৎসবের, যা চলবে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। রেইনবো ফিল্ম সোসাইটি আয়োজিত এই উৎসব ঘিরে সমৃদ্ধ আয়োজনে প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে ডিফ।
তবে বড় ধরনের বাজেট সংকট ও সেন্সর প্রক্রিয়ার ধীরগতির কারণে কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে এই উৎসব। ১৯৯২ সাল থেকে আয়োজিত এই উৎসবের ২৪তম আসর সামনে রেখে প্রয়োজনীয় তহবিল নিশ্চিত না হওয়ায় আয়োজকরা কিছুটা উদ্বিগ্ন।
শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উৎসব পরিচালক আহমেদ মুজতবা জামান জানান, এ বছরের প্রস্তুতি নিয়মিতভাবে এগোলেও সম্পূর্ণ বাজেটের মাত্র ১০ শতাংশ নিশ্চিত করতে পেরেছেন তারা। এমন পরিস্থিতিতে উৎসব আয়োজন নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমাদের মতো একটি আন্তর্জাতিক উৎসব আয়োজনে বড় পরিসরের বাজেট প্রয়োজন। কিন্তু এখন পর্যন্ত খুব সামান্য অংশ নিশ্চিত হয়েছে। ফলে সরকারি ও বেসরকারি— উভয় ক্ষেত্র থেকেই আমরা আন্তরিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।”
সেন্সর প্রক্রিয়া নিয়েও আছে জটিলতা, এমনটাই উল্লেখ করা হয় ডিফের পাঠানো এই সংবাদ বিবৃতিতে।
এবার উৎসবের জন্য নির্বাচিত হয়েছে ৯১টি দেশের ২৬৭টি চলচ্চিত্র, যা ডিফের-এর ইতিহাসে সর্বোচ্চ। তবে এর বড় অংশেরই সেন্সর সনদ এখনো পাওয়া যায়নি। নিয়ম মেনে সেন্সর প্রক্রিয়া শেষ করতে আয়োজকদের পর্যাপ্ত সময় ব্যয় করতে হচ্ছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “চলচ্চিত্রগুলোর সেন্সর সনদ এখনো সম্পূর্ণ না হওয়ায় প্রদর্শনী সূচি চূড়ান্ত করতে দেরি হচ্ছে। সেন্সর প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্নের জন্য সরকারি সহায়তা অত্যন্ত জরুরি। নির্বিঘ্ন সেন্সর কার্যক্রমই উৎসবকে সফলভাবে আয়োজনের চাবিকাঠি।”
ডিফে এবার ৯ টি বিভাগে চলচ্চিত্র নির্বাচিত হয়েছে। বিভাগগুলো হলো এশিয়ান ফিল্ম কম্পিটিশন, রেট্রোস্পেকটিভ, ওয়াইড অ্যাঙ্গেল, বাংলাদেশ প্যানোরামা, সিনেমা অব দ্য ওয়ার্ল্ড, চিলন্ড্রেন ফিল্ম সেশন, ওমেন ফিল্মমেকার বিভাগ, শর্ট অ্যান্ড ইন্ডিপেনডেন্ট ফিল্ম, স্পিরিচুয়াল ফিল্ম এবং ওপেন টি বায়োস্কোপ!
পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হবে— Twelfth Dhaka International Conference on Women in Cinema 2026, চতুর্থ West Meets East Screenplay Lab, চাইনিজ ফিল্ম এক্সিবিশন, পেইন্টিং এক্সিবিশন (৯–১৭ জানুয়ারি) এবং চতুর্থ মাস্টারক্লাস (১৭ জানুয়ারি)। ফিল্ম প্রদর্শনী হবে অঁলিয়েস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকা, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘর অডিটোরিয়ামসহ বিভিন্ন ভেন্যুতে। এমনকি স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়েও শো আয়োজন করা হবে।
গত ৩৩ বছরে ডিফ বাংলাদেশে সুস্থ চলচ্চিত্রচর্চার বিকাশ, তরুণ নির্মাতাদের অনুপ্রাণিত করা এবং বাণিজ্যিকতার বিপরীতে মানসম্মত সিনেমার পক্ষে অবস্থান নেওয়ার মাধ্যমে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে সব আয়োজন ঠিক থাকলেও তহবিল সংকট ও সেন্সর জটিলতা দূর না হলে এ মর্যাদাপূর্ণ উৎসবের এবারের আয়োজন কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে—এমন শঙ্কাই প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।









