বাংলাদেশ এনজিওস নেটওয়ার্ক ফর রেডিও অ্যান্ড কমিউনিকেশন (বিএনএনআরসি)-এর উদ্যোগে প্রযুক্তির সহায়তায় সংঘটিত জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ, প্রশমন ও করণীয় এবং ডিজিটাল উন্নয়ন প্রচারণা বিষয়ে নারী গণমাধ্যম পেশাজীবীদের সঙ্গে সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ঢাকায় অনুষ্ঠিত এ সংলাপে জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেক্ট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের ৩০ জন নারী সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণমূলক এই সংলাপে তারা প্রযুক্তিনির্ভর জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ, প্রশমন এবং ডিজিটাল উন্নয়ন প্রচারণায় নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি পরিবার, সমাজ ও সহকর্মীদের সচেতন করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
সংলাপের মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রযুক্তির সহায়তায় সংঘটিত জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা (টিএফজিবিভি)-এর ধারণা, ধরন ও প্রভাব সম্পর্কে সাংবাদিকদের অবহিত করা, প্রতিরোধ ও প্রশমনে করণীয়, সংশ্লিষ্ট আইন ও নীতিমালা বিষয়ে জ্ঞান বৃদ্ধি এবং এ বিষয়ে বিশ্লেষণমূলক প্রতিবেদন তৈরিতে নারী গণমাধ্যমকর্মীদের উৎসাহিত করা। একই সঙ্গে পারস্পরিক যোগাযোগ ও নেটওয়ার্ক গড়ে তুলে ভবিষ্যতে সম্মিলিত উদ্যোগ জোরদার করার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।
সংলাপের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন বিএনএনআরসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ এইচ এম বজলুর রহমান। তিনি টিএফজিবিভির ধারণা, এর ক্ষতিকর প্রভাব এবং এই সমস্যা মোকাবিলায় গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তুলে ধরেন।
প্রযুক্তির সহায়তায় জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার ধারণা, ধরন, নেতিবাচক প্রভাব এবং ডিজিটাল উন্নয়নের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য নিয়ে মূল উপস্থাপনা দেন সিনিয়র সাংবাদিক শাহনাজ মুন্নী। তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের করণীয়, তথ্য সংগ্রহের নতুন ক্ষেত্র এবং অংশীজন নির্বাচনের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন এবং সাংবাদিকদের জন্য সংক্ষিপ্ত নীতিগত সুপারিশ তুলে ধরেন।
সংলাপে একাত্তর টিভির বিশেষ প্রতিনিধি শাহনাজ শারমিন নারী হিসেবে অনলাইন ও অফলাইনে প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সহিংসতা ও হয়রানির অভিজ্ঞতা তুলে ধরার আহ্বান জানান। এতে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন এবং সম্ভাব্য প্রতিকার নিয়ে আলোচনা করেন।
পরে ১২ জন ডেজিগনেটেড স্পিকার বিশেষ সংলাপে অংশ নেন। এই অধিবেশনটি সঞ্চালনা করেন চ্যানেল আই-এর বিশেষ প্রতিনিধি জান্নাতুল বাকেয়া। মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন, টিএফজিবিভি প্রতিরোধে আগে নিজেকে সচেতন হতে হবে। ভুল ও অপতথ্য দমন এবং সঠিক তথ্যের প্রবাহ নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমের সক্রিয় ভূমিকা অপরিহার্য।
আলোচনায় আরও বলা হয়, সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের জন্য বিদ্যমান সরকারি সহায়তা সেবাসমূহ সম্পর্কে জনসাধারণকে জানানো জরুরি। পরিবার থেকেই অনেক সময় সহিংসতার শিকার ব্যক্তির প্রথম বাধা আসে, তাই পরিবার ও সমাজকে সচেতন করতে গণমাধ্যমের জোরালো ভূমিকা প্রয়োজন।
সংলাপ শেষে উপস্থিত নারী গণমাধ্যমকর্মীরা পারস্পরিক যোগাযোগ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে টিএফজিবিভি-সংক্রান্ত বিষয় চিহ্নিত করে নিয়মিত প্রতিবেদন প্রকাশের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, সংলাপটি বিএনএনআরসির ‘স্ট্রেনদেনিং রেজিলিয়েন্স এগেইনস্ট টেকনোলজি ফেসিলিটেটেড জেন্ডার বেইসড ভায়োলেন্স অ্যান্ড প্রমোটিং ডিজিটাল ডেভেলপমেন্ট’ প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়িত হয়। প্রকল্পটি নাগরিকতা: সিভিক এনগেজমেন্ট ফান্ড (সিইএফ) কর্মসূচির অংশ, যার কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে জিএফএ কনসালটিং গ্রুপ এবং অর্থায়ন করছে সুইজারল্যান্ড ও গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা।









