জলবায়ু পরিবর্তন ও নানা পরিবেশগত কারণে বিশ্বের বিভিন্ন শহরের বায়ুদূষণ দিন দিন বেড়েই চলেছে। এর মধ্যে মেগাসিটি ঢাকার অবস্থাও উদ্বেগজনক। বেশ কিছু দিন ধরে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় প্রথম দিকেই রয়েছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা।
শুক্রবার ২৮ ফেব্রুয়ারি বেলা সোয়া ১২টার দিকে আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের তথ্যানুযায়ী, ২৪৪ স্কোর নিয়ে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে ঢাকা। শহরটির বাতাসের মান ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে রয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ।

একিউআই (এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স) স্কোর ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে থাকলে তা ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়। এ অবস্থায় শিশু, প্রবীণ ও অসুস্থ ব্যক্তিদের বাড়ির ভেতরে থাকার পাশাপাশি অন্যদেরও বাইরের কার্যক্রম সীমিত রাখার পরামর্শ দেয়া হয়। ঢাকার বায়ুদূষণের মাত্রা এতটাই উচ্চ যে, এটি নগরবাসীর জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।
একই সময়ে, ২১২ স্কোর নিয়ে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে উজবেকিস্তানের রাজধানী তাসখন্দ। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু, যার স্কোর ২০৮। চতুর্থ স্থানে রয়েছে উগান্ডার রাজধানী কাম্পালা (১৯৮ স্কোর) এবং পঞ্চম স্থানে রয়েছে চীনের রাজধানী বেইজিং (১৮০ স্কোর)।
একিউআই স্কোর শূন্য থেকে ৫০ পর্যন্ত ভালো, ৫১ থেকে ১০০ মাঝারি এবং ১০১ থেকে ১৫০ পর্যন্ত সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয়। স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ হলে তা ‘অস্বাস্থ্যকর’ এবং ২০১ থেকে ৩০০ হলে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলে ধরা হয়। ৩০১ থেকে ৪০০ স্কোরকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, যা নগরবাসীর জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।
ঢাকার বায়ুদূষণের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে যানবাহনের ধোঁয়া, নির্মাণকাজের ধুলা, শিল্পকারখানার নির্গমন এবং ইটভাটার ধোঁয়া উল্লেখযোগ্য। এছাড়া আবহাওয়ার পরিবর্তন এবং শুষ্ক মৌসুমেও দূষণের মাত্রা বেড়ে যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বায়ুদূষণ রোধে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং কঠোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রয়োজন। এ বিষয়ে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ নেয়া না হলে ঢাকার বায়ুদূষণের মাত্রা আরও বাড়তে পারে, যা নগরবাসীর স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনবে।









