রাজধানী সিদ্দিক বাজার এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহতদের মরদেহ রাখা হয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে। সেখানে স্বজনরা লাশ শনাক্তের চেষ্টা করছেন। আর মর্গের ভেতর থেকে ভেসে আসছে আর্তনাদ।
মঙ্গলবার ৭ মার্চ রাত আটটার দিকে জরুরি বিভাগের মর্গের সামনে থেকে আর্তনাদ শোনা যায়। দেখা যায়, স্বজনদের লাশের খোঁজ সকরতে দেখা গিয়েছে।
লাশ দেখেই চিৎকার করে উঠছেন কেউ কেউ। এক নারীকে বলতে শোনা যায়, ওরে বাবা, আমি তোকে পেলাম, কিন্তু লাশ হিসেবে। পরে ওই নারী অজ্ঞান হয়ে পড়েন।
ওই লাশ ঘরের দায়িত্বরত একজন জানান, অনেকেই আসছেন লাশ শনাক্তের চেষ্টা করছেন। আবার অনেকেই লাশ সনাক্ত করছেন। তবে যারাই স্বজনের সন্ধানে লাশ ঘরে ঢুকছেন সবাই চিৎকার করে কান্নাকাটি করছেন।
বিস্ফোরণের আগে বন্ধু বলল ‘কই তুই?’ এখন আর খোঁজ নেই
গুলিস্তানের সিদ্দিক বাজারে বিস্ফোরণের ঘটনার সময় ভবনে ছিলেন রনি। মাত্র এক মিনিট আগে তার বন্ধু মহিউদ্দিন সুমন ফোন করে বললেন কই তুই? তিনি জানান দোকানেই আছেন। এরপরই বিস্ফোরণ।
বিস্ফোরণের পর বন্ধুর খোঁজে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে ছুটে এসেছেন রনি। বললেন: খুব বড় বিস্ফোরণ। চারিদিকে বিকট শব্দে সব অন্ধকার হয়ে গেলো। এরপর আমার বন্ধুটাও নেই, এক মিনিট আগে জিজ্ঞেস করলো কই তুই? আমি ছেলেকে জড়িয়ে ধরলাম। এরপর দেখি আমার বন্ধুর দোকানসহ পাঁচটা দোকান ধসে গেছে। আমার বন্ধুর সঙ্গে ছোট বোনের জামাই ছিল। তাদের কাউকে খুঁজে পাচ্ছি না। ঘটনাস্থল থেকে আমাদের ঢাকা মেডিক্যালে খোঁজ নিতে বলা হয়।
রনি বললেন: সুমন তাসনিম এন্টারপ্রাইজের মালিক ছিল। বিস্ফোরণের পর অনেক খুঁজেছি ফোন দিয়েছি রিং হচ্ছে কিন্তু কেউ তা রিসিভ করছে না।
আর্তনাদে ভারী ঢামেকর বাতাস
আহত এবং নিহতদের স্বজনদের কান্না আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। হাসপাতালে এসে সবাই স্বজনদের খুঁজছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, আহত মানুষদের নিয়ে একের পর এক অ্যাম্বুলেন্স ভেতরে প্রবেশ করছে। জরুরি বিভাগ থেকে শুরু করে বাইরের সড়ক পর্যন্ত আহত এবং নিহতদের স্বজনদের আহাজারি চলছে।
হতাহতদের সেবা দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা
ঢাকা মেডিকেলের ডাক্তার ও নার্স থেকে শুরু করে হাসপাতালের কর্মীরা হতাহতদের সেবা দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
আহতদের সেবায় ছাত্রলীগ
ঢাকা মেডিক্যালল কলেজ হাসপাতালে আহত রোগীদের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।
বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগ, সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ রোগীদের রক্তদান ও প্রাথমিক চিকিৎসা দিচ্ছেন। সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে আহতদের সেবায় বুথ স্থাপন করেছে বাংলাদেশ।
ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন বলেন, যেকোন মূল্যে আহতদের সেবায় সর্বদা সাথে থাকবে ছাত্রলীগ। ছাত্রলীগের ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগ, সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ শাখায় অনেক ইন্টার্ন, চিকিৎসক ও ছাত্র আছেন। তারা রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা প্রদান করবে।
বিস্ফোরণের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাদের মরদেহ আনা হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৭৭ জন।
মঙ্গলবার ৭ মার্চ বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটের দিকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এরপর হতাহতদের দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়। হাসপাতালে আনা আহতদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।









