আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৫ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে (ইটিআই) মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং অফিসার ও ঢাকা অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ইউনুচ আলী তার প্রার্থিতা বৈধ বলে ঘোষণা করেন।
কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, কাফরুল ও মিরপুরের কিছু অংশ নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৫ আসনটিকে ঘিরে বাড়ছে রাজনৈতিক আগ্রহ ও আলোচনা।
এই আসনে মুখোমুখি হচ্ছেন ভিন্ন ধারার দুই রাজনীতিক। একদিকে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান—জাতীয় পর্যায়ে সুপরিচিত, সুগঠিত আদর্শিক ভিত্তিসম্পন্ন একজন নেতা। অন্যদিকে বিএনপির স্থানীয় সংগঠক ও যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন, যিনি প্রথমবারের মতো জাতীয় রাজনীতির মঞ্চে লড়াই করছেন।
মাঠপর্যায়ে পরিদর্শন ও প্রচারকর্মীদের সঙ্গে আলাপ করে বোঝা যায়, দুই প্রার্থীর নির্বাচনী কৌশলে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। শফিকুর রহমান তার জাতীয় পরিচিতি ও জামায়াতে ইসলামীর সুসংগঠিত দলীয় কাঠামোর ওপর ভর করে প্রচারণা চালাচ্ছেন। বিপরীতে মিল্টনের প্রচারণার মূল শক্তি হিসেবে কাজ করছে নিরবচ্ছিন্ন স্থানীয় যোগাযোগ ও তৎপরতা।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ডা. শফিকুর রহমানের দাখিলকৃত হলফনামা এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই করে কোনো ত্রুটি পাওয়া যায়নি। ফলে তার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করতে কোনো আইনি বাধা নেই।
উল্লেখ্য, গত ২৯ ডিসেম্বর জামায়াতে ইসলামীর একটি প্রতিনিধি দল ডা. শফিকুর রহমানের পক্ষে এই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিল। ২০০৮ সালের পর দীর্ঘ বিরতি দিয়ে নিবন্ধন ফিরে পাওয়ার পর এবারই প্রথম জামায়াতে ইসলামী নিজস্ব প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে।
২৯ ডিসেম্বর ছিল মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিন ছিল। ৪ জানুয়ারি রোববারের মধ্যে দেশব্যাপী সকল আসনের বাছাই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের পর কোনো প্রার্থীর প্রার্থিতা নিয়ে আপত্তি থাকলে ৫ থেকে ৯ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন কমিশনে আপিল করা যাবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।









