রাজধানী ঢাকার বায়ু দূষণ রোধে আগামী সাত দিনের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
একই সঙ্গে ঢাকার বায়ু দূষণ রোধে পাঁচ বছর আগে হাইকোর্টের ৯ দফা নির্দেশনা বাস্তবায়নেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ সংক্রান্ত এক আবেদনে শুনানি শেষে রবিবার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেনে সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. তানিম খান।
ঢাকার বায়ু দূষণ রোধে ২০১৯ সালে মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি)’র পক্ষে জনস্বার্থে একটি রিট করা হয়। সে রিটের প্রাথমিক শুনানির পর ওই বছর ২৮ জানুয়ারি রুলসহ আদেশে হাইকোর্ট ঢাকা শহরে যারা বায়ু দূষণের কারণ সৃষ্টি করছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সপ্তাহে দুই বার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে পরিবেশ অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেন।
এছাড়া রাজধানীর যেসব জায়গায় উন্নয়ন ও সংস্কার কাজ চলছে, সেসব জায়গা ১৫ দিনের মধ্যে এমনভাবে ঘিরে ফেলতে বলা হয়, যাতে শুষ্ক মৌসুমে ধুলা ছড়িয়ে বায়ু দূষণের মাত্রা বাড়াতে না পারে। পাশাপাশি ‘ধুলবালি প্রবণ’ এলাকায় দিনে অন্তত দুইবার করে পানি ছিটানোর ব্যবস্থা করতে সিটি করপোরেশনকে নির্দেশ দেওয়া হয়।
এর আগে রিটকারি পক্ষের আবেদনের পর হাইকোর্ট ২০২০ সালের ১৩ জানুয়ারি ৯ দফা নির্দেশনা দেন। নির্দেশনাগুলো হচ্ছে- ১. ঢাকা শহরে মাটি-বালি-বর্জ্য পরিবহনকারী ট্টাক-পিকআপ-ভ্যান ভালভাবে ঢেকে পরিবহন করা। ২. নির্মাণাধীন এলাকায় মাটি, বালি, সিমেন্ট, পাথরসহ নির্মাণ সামগ্রী ঢেকে রাখা । ৩. ঢাকার রাস্তায় নিয়মিত পানি ছিটানো। ৪. ঢাকার রাস্তা, কালভার্ট, কার্পেটিং বা খোড়াখুড়ি কাজে দরপতেওর শর্ত পালন নিশ্চিত করা। ৫. কালো ধোঁয়া নিঃসরণকারী যানবাহন জব্দ করা। ৬. সড়ক পরিবহন আইন অনুসারে যানবাহনের ফিটনেসের সময়সীমা নির্ধারণ ও ফিটনেসের মেয়াদ উত্তীর্ণের তা বন্ধ করে দেওয়া। ৭. ঢাকা ও আশেপাশের এলাকার অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করা। ৮. পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়া টায়ার ফ্যাক্টরির অনুমোদন না দেওয়া। যেসব ফ্যাক্টরির পরিবেশ ছাড়পত্র নেই সেগুলো বন্ধ করা। ৯. মল, মার্কেট ও দোকানের প্রতিদিনের বর্জ্য ব্যাগে ভরে রাখা এবং অপসারণ নিশ্চিত করা।
আজকের আদেশের পর আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, ‘হাইকোর্টের আগের নির্দেশনা অনুযায়ী কিছু পদক্ষেপ নেওয়ায় বায়ু দূষণের মাত্রা এক-দুই বছর কিছুটা কমে আসে। কির্তু পরবর্তীতে সেসব পদক্ষেপ অব্যাহত না রাখা এবং কিছু কিছু নির্দেশনা বাস্তবায়ন না করায় ঢাকা শহরে বায়ু দূষণের মাত্রা চরম আকার ধারণ করেছে। বায়ু দূষণের দিক থেকে ঢাকা বিশ্বের শহরগুলোর মধ্যে এক নম্বরে উঠে যাচ্ছে। এ নিয়ে উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। বন ও পরিবেশ সচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশের মেয়র, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)’র চেয়ারম্যানসহ রিটের ১১ বিবাদীকে আদেশ বাস্তবায়ন করে আগামী ২৬ জানুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়ছে।’









