দেশের প্রথম সিনে পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক ছিলেন প্রয়াত ফজলুল হক। পঞ্চাশের দশকে দেশে সিনেমা শিল্প শুরু আগ থেকে তিনি সিনে সাংবাদিকতা ও চলচ্চিত্র বিষয়ক পত্রিকা প্রকাশ করে দুঃসাহসিক কাজ করেছিলেন। এ কারণে তাকে ‘সিনে সাংবাদিকতার জনক’-ও বলা হয়ে থাকে। পাশাপাশি তিনি দেশের প্রথম চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুশোখ’ নির্মাণ সংশ্লিষ্ঠদের একজন।
সেই সঙ্গে নিজে নির্মাণ করেছিলেন ‘সান অব পাকিস্তান’ (প্রেসিডেন্ট), ‘উত্তরণ’। দেশের চলচ্চিত্র সাংবাদিকতা ও চলচ্চিত্র নির্মাণের একেবারে সূচনা পর্বে ফজলুল হকের অবদান স্মরণীয়। চলচ্চিত্র, শিল্প-সাহিত্যের সব শাখার ফজলুল হকের অবদান স্মরণীয় করে রাখতে তাকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদানের দাবি তোলা হয়েছে।
রবিবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে চ্যানেল আই ভবনে ২২তম ‘ফজলুল হক স্মৃতি পুরস্কার’ অনুষ্ঠানে এই দাবি তোলেন আনন্দ আলোর সম্পাদক সাংবাদিক রেজানুর রহমান।

তিনি বলেন, যারা কোনোকিছুর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন, তাদের কেউ মনে রাখে না। আমাদের গুরু ফজলুল হক তেমনভাবে সিনে সাংবাদিকতার ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেছিলেন, দেশের চলচ্চিত্র বিকাশে অনেক অবদান রেখেছিলেন। অথচ তিনি রাষ্ট্রীয়ভাবে কোনো স্বাধীনতা পদক, একুশে পদক পাননি।
রেজানুর রহমান বলেন, ফজলুল হক স্মৃতি কমিটির পক্ষে আমি দাবি করছি, আমাদের গুরুকে রাষ্ট্রীয়ভাবে এই পদকে সম্মাননার জানানোর জন্য।
জনপ্রিয় চলচিত্র নির্মাতা রায়হান রাফী ও চলচ্চিত্র সাংবাদিক আলিমুজ্জামানকে দেয়া হয় ২২তম ফজলুল হক স্মৃতি পুরস্কার।
এই আয়োজনে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও ইমপ্রেস গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু, চলচ্চিত্র নির্মাতা মতিন রহমান, শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন, অন্যপ্রকাশের প্রকাশক মাজহারুল ইসলাম, অভিনেতা, নির্মাতা ও চিত্রশিল্পী আফজাল হোসেন, আফসানা মিমি, সাংবাদিক আবদুর রহমান, বাচসাসের সাবেক সভাপতি ও কবি রাজু আলীম, বাচসাসের সাধারণ সম্পাদক রাহাত সাইফুলসহ আরও অনেকে।

মাজহারুল ইসলাম বলেন, ফজলুল হককে জানা মানে আমাদের সংগ্রামী সাংস্কৃতিক ইতিহাসের এক অতীত অধ্যায়কে জানা। আমাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্নগুলো বাস্তবায়নের জন্য ফজলুল হকের মতো মহান প্রতিভাবান মানুষকে আমাদের আরও গভীরভাবে জানতে হবে।
মতিন রহমান বলেন, বাংলাদেশের সব পুরস্কার নিয়ে বিতর্ক থাকলেও ফজলুল হক স্মৃতি পুরস্কার নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই। আফসানা মিমি বলেন, ফজলুল হকের স্মৃতি অমলিন রাখতে আমরা আরও কিছু ওয়ার্কশপ ও সেমিনারের পরিকল্পনা করেছি। যাতে তার কর্মময় জীবন দেশের মানুষ জানতে পারেন।
রেজাউদ্দিন স্টালিন বলেন, ফজলুল হকের কর্মজীবন নিয়ে নির্মিত ডকুমেন্টরি শিল্পকলা একাডেমিতে প্রদর্শনের চেষ্টা করবো। পাশাপাশি সারা বাংলাদেশের শিল্পকলা একডেমিতে নেয়া নতুন প্রজেক্টে এই ডকুমেন্টরিটি দেখানোর চেষ্টা করবো।









