দিল্লিকে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিনের বায়ুদূষণ এখন শিশুদের জীবনকে সরাসরি হুমকির মুখে ফেলছে। শহরের সর্বত্র ধোঁয়াচ্ছন্ন পরিবেশে শ্বাসকষ্ট, কাশি, অ্যালার্জি ও নিউমোনিয়ার মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
আজ ২৭ নভেম্বর বৃহস্পতিবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বিবিসি জানিয়েছে, চিকিৎসকদের মতে, আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বেশি। দিল্লির নয়ডার একটি শিশু ক্লিনিকে গিয়ে দেখা যায়, অপেক্ষা কক্ষ ভর্তি উদ্বিগ্ন মা বাবা। অনেক শিশু কাশি ও শ্বাসকষ্টে ভুগছে।
শিশুস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা শিশির ভাটনাগর জানান, পূর্বে যেখানে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ রোগী এ ধরনের সমস্যায় ভুগতেন, বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ থেকে ৭০ শতাংশে। তার মতে, শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এখনো সম্পূর্ণ গড়ে ওঠেনি, ফলে দূষিত বায়ুর ক্ষুদ্র কণা দ্রুত ফুসফুসে প্রবেশ করে প্রভাব ফেলছে।
গত এক মাস ধরে দিল্লির এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স ৩০০ থেকে ৪০০ এর মধ্যে অবস্থান করছে। যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশকৃত মাত্রার ২০ গুণেরও বেশি। এ ধরণের দূষিত বায়ু সুস্থ মানুষের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ। শিশু ও প্রবীণদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব আরও মারাত্মক হতে পারে।
পালমোনোলজি বিশেষজ্ঞ ডা এ ফাতাহুদ্দিন জানান, দরিদ্র ও বস্তির শিশুদের ওপর প্রভাব সবচেয়ে বেশি। সঙ্কীর্ণ ঘর, রান্নার ধোঁয়া ও যানবাহনের ধোঁয়ার মধ্যে থাকার ফলে তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ছে। ছোটবেলায় এ ধরনের সংক্রমণ চিকিৎসা না হলে পরবর্তীতে তা ফুসফুসের জটিল রোগে রূপ নিতে পারে।
প্রতি বছর দূষণ রোধে জরুরি উদ্যোগ নেওয়া হলেও ফল মিলছে না। চলতি বছর নির্মাণকাজ বন্ধ রাখা, দূষণকারী যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও কৃত্রিম বৃষ্টি ঘটানোর চেষ্টা করা হলেও পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। অনেক পরিবার এখন দিল্লি ছেড়ে অন্যত্র যাওয়ার কথা ভাবছে।









