চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে হেরেছেন নায়িকা নিপুণ আক্তার। তিনি ডিপজলের কাছে ১৬ ভোটে পরাজিত হয়েছেন। ভোটের ফলাফলও মেনে নিয়েছিলেন নিপুণ! এমনকি ফলাফল ঘোষণার সময় নব নির্বাচিতদের ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নিয়েছিলেন!
তবে মাস পূর্তির আগেই শিল্পী সমিতি বিজয়ী মিশা সওদাগর ও মনোয়ার হোসেন ডিপজল প্যানেলের নির্বাচিত কমিটির (২০২৪-২৬ মেয়াদের নির্বাচন) ফলাফল বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট করেছেন নিপুণ। রিটে তিনি মিশা-ডিপজলের নেতৃত্বাধীন কমিটির দায়িত্ব পালনে নিষেধাজ্ঞা চাওয়ার পাশাপাশি তদন্ত চেয়েছেন।
আর এতে চটেছেন বর্তমান কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। বিষয়টি নিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে সাংবাদিকদের সাথেও কথা বলেন মিশা সওদাগর ও ডিপজল।
এদিন নিপুণ সমর্থিত শতাধিক শিল্পীরা মিশা-ডিপজলকে এফডিসিতে সংবর্ধনা দিয়েছেন। এসময় তাদের উদ্দেশ্যে ডিপজল বলেন, ‘আমরা কাউকে আলাদা করতে চাইনি। আমি আগেও বলেছি, এখনো বলছি— যারা একদিনের জন্য সদস্য হয়েছেন। কিন্তু বাদ পড়েছেন তারা সদস্যপদ ফিরে পাবেন। যেহেতু নির্বাচিত হয়েছি, এখন তাদের সদস্যপদ ফিরিয়ে দেব। বিগত দিনে যারা ভুল করেছেন, তাদের আমরা ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখছি, আপনারাও দেখবেন। পেছনে ফিরে তাকানোর সময় নেই। কীভাবে চলচ্চিত্রের উন্নয়ন করা যায়, সেভাবে কাজ করতে হবে।’
এসময় নিপুণের রিটের বিষয়টি নিয়ে কথা উঠলে ডিপজল বলেন, ‘কেস খেলবা, আসো! যেটা খেলার মন চায় সেটাই খেলো। আমরা চাই ভদ্রতা ও নম্রতা। আমরা চাই চলচ্চিত্রকে কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়, সেদিকে কাজ করার। আমরা ঝামেলা চাই না।’
একই বিষয়ে কথা বলেন সভাপতি মিশা সওদাগর। তার দাবী, নিপুণের বিরুদ্ধেও অভিযোগ ও সাক্ষী আছে তার কাছে। তার ভাষ্য, ‘নির্বাচন শেষ হয়েছে প্রায় ১ মাস। আপিল বিভাগও ছিল। কিন্তু কোনো অভিযোগ আসেনি। নির্বাচন যে সুষ্ঠু হয়েছে তা তো নিপুণ নিজ মুখেই স্বীকার করেছেন— এটা উপস্থিত সবাই শুনেছেন। তিনি হাসিমুখে ফল মেনে নিয়ে আমাদের সঙ্গে অনেক আনন্দ-ফুর্তিও করেছেন। এতদিন পর এসে এসব কথা বলার মানে কী? আসলে তিনি কী চান?’
নিপুণের কারণে শিল্পীদের নিয়ে অতীতেও সাধারণ মানুষ হাস্যরসে মেতে উঠেছে। এমনটা জানিয়ে মিশা এদিন আরো বলেন, ‘জায়েদ খান যখন নির্বাচনে জয় লাভ করলেন (সাধারণ সম্পাদক পদে) তখনও সে (নিপুণ) এমন একটি কাজ করে ওকে ওর আসনেই বসতে দিলেন না। এ নিয়ে অনেক জলঘোলা হয়েছে। আর এসব কর্মকাণ্ড দেখে সাধারণ মানুষজন হেসেছে। শিল্পীরা হলো সমাজের আইডল। তাদের থেকে সাধারণ মানুষ ও ভক্তরা অনেক কিছু শিখে। আবার এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি, সমাজে আমাদের অবস্থানটা কোথায় গিয়ে দাঁড়াচ্ছে?’
মিশা এ সময় বলেন, ‘তিনি নির্বাচন ঘিরে যেসব অভিযোগ এনেছেন, আমার কাছেও তো অনেক অনেক অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। যার সাক্ষী-প্রমাণও আছে। সময় মতো তার কথার জবাব দেওয়া হবে।’
গত ১৯ এপ্রিল চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০২৪-২৬ মেয়াদি নির্বাচনে জয়ী হয়েছে মিশা-ডিপজল প্যানেল। সভাপতি পদে মিশা ২৬৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তিনি হারিয়েছেন নিপুণ প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী মাহমুদ কলিকে, যিনি ১৭০ ভোট পেয়েছিলেন।
অন্যদিকেম মাত্র ১৬ ভোটের ব্যবধানে সেক্রেটারি পদে মনোয়ার হোসেন ডিপজলের কাছে হেরে যান নিপুণ আক্তার। ডিপজল ২২৫ ভোট পেয়েছিলেন এবং নিপুণ পেয়েছিলেন ২০৯ ভোট।









