পাকিস্তানের বাণিজ্যিক রাজধানী করাচির একটি ব্যস্ত শপিং কমপ্লেক্সে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬১ জনে। এখনও ৪০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আশঙ্কা করা হচ্ছে, চূড়ান্ত হিসাবে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
এনডিটিভি জানিয়েছে, বুধবার ২২ জানুয়ারি করাচির দক্ষিণ জোনের ডিআইজি আসাদ রাজা এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানান, গুল প্লাজার দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত ‘দুবাই ক্রোকারিজ’ নামের একটি দোকান থেকে আরও ৩০ জনের অগ্নিদগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত মরদেহগুলোর মধ্যে এখন পর্যন্ত ১৫ জনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। বাকিদের শনাক্তে ডিএনএ পরীক্ষাসহ অন্যান্য প্রক্রিয়া চলমান।
গত শনিবার (১৭ জানুয়ারি) গুল প্লাজায় আগুনের সূত্রপাত হয়। ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে। শুকনো আবহাওয়ার কারণে আগুন অত্যন্ত দ্রুত পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, তা নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের প্রায় ২৪ ঘণ্টা সময় ব্যয় করতে হয়। পুলিশ জানায়, আগুন লাগার সময় দোকানটির ভেতরে আশ্রয় নেওয়ার উদ্দেশ্যে শাটার নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সেই শাটারই ভেতরে থাকা মানুষদের জন্য প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে। নিহতদের মধ্যে দোকানটির মালিক ও কর্মচারীরাও রয়েছেন।
করাচি ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ এই বিপুল প্রাণহানির জন্য শপিং কমপ্লেক্সটির ব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেছে। ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা জানান, গুল প্লাজায় মোট ২৬টি প্রবেশ ও বহির্গমন ফটক থাকলেও কার্যকর ছিল মাত্র দুটি। বাকি গেটগুলো দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ ছিল এবং আগুন লাগার সময় সেগুলো খোলা হয়নি। ফলে বহু মানুষ ভবনের ভেতর আটকা পড়েন। এছাড়া, প্লাজাটিতে কার্যকর অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা ছিল না।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিখোঁজ ব্যক্তিদের খোঁজ না পাওয়া গেলে নিহতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যে সিন্ধ প্রাদেশিক সরকার একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। করাচির পুলিশ প্রধান ও কমিশনার সৈয়দ হাসান নাকভি জানিয়েছেন, কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং দায়ীদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।









