দক্ষিণ মহাসাগরের একাধিক গভীরের অঞ্চলে সম্প্রতি ৩০টি নতুন জীব আবিষ্কৃত হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম একটি অদ্ভুত প্রজাতি হলো ‘ডেথ বল স্পঞ্জ’, যা শিকার আটকানোর জন্য ক্ষুদ্র হুকযুক্ত গোলাকার আকৃতির। এই আবিষ্কার গভীর সমুদ্রের জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে আমাদের জানা জ্ঞানের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
আজ ৩০ অক্টোবর বৃহস্পতিবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এনডিটিভি জানিয়েছে, এই আবিষ্কার জাপানের নিপপন ফাউন্ডেশন-নেকটন ওশন সেনসাস এবং শ্মিডট ওশন ইনস্টিটিউট–এর যৌথ দুইটি ২০২৫ সালের একটি গবেষণা ক্রুজের মাধ্যমে করা হয়। গবেষকরা দক্ষিণ স্যান্ডউইচ দ্বীপপুঞ্জের আগ্নেয়গিরির ক্যালডেরা, সাউথ স্যান্ডউইচ ট্রেঞ্চ এবং মোন্টাগু ও স্যান্ডার্স দ্বীপের সমুদ্র তলদেশ ঘুরে প্রজাতি সন্ধান করেন।
ডেথ বল স্পঞ্জের গোলাকার শারীরিক আকৃতি এবং হুকযুক্ত সারফেস অধিকাংশ স্পঞ্জের শান্ত, ফিল্টার-ফিডিং পদ্ধতির সঙ্গে পুরোপুরি বিপরীত। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি গভীর সমুদ্রের জীববৈচিত্র্যের অদ্ভুত ও রহস্যময় দিক তুলে ধরে। গবেষণার সময় কিছু জোম্বি ওয়ার্মও দেখা গেছে। মুখ বা অন্ত্র নেই এমন এই জীব মূলত ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে তিমিসহ বড় প্রাণীদের কশেরুকা হাড়ের চর্বি ভাঙে।
গবেষকরা প্রায় ২ হাজার নমুনা সংগ্রহ করেছেন ১৪টি প্রাণী গোষ্ঠীর মধ্যে। সঙ্গে হাজার হাজার উচ্চ-মানের ছবি এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টার ভিডিও রেকর্ডিং হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে ৭০০ মিটার গভীরে নতুন হাইড্রোথার্মাল ভেন্টের আবিষ্কার, উজ্জ্বল কোরাল বাগান, সমুদ্র তলে আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণ এবং প্রথমবারের মতো কনিষ্ঠ কোলসাল স্কুইডের ভিডিও ফুটেজ নিশ্চিত করা।
বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই নতুন আবিষ্কারগুলো গভীর সমুদ্রের প্রাণিসম্পদ ও জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে আমাদের জানা জ্ঞানের নতুন অধ্যায় উন্মোচন করেছে এবং ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত গবেষণার জন্য দিকনির্দেশনা দেবে।









