কিংবদন্তী নির্মাতা সত্যজিৎ রায়ের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে তাকে ট্রিবিউট করে প্রসূন রহমান নির্মাণ করেছেন ‘প্রিয় সত্যজিৎ’ নামের স্বাধীন চলচ্চিত্র। গেল বছরেই সম্পন্ন করেছেন শুটিং। চলতি বছরেই ছিলো মুক্তির পরিকল্পনা। কিন্তু সেটা হচ্ছে না।
সিনেমাটির বর্তমান অবস্থা জানালেন নির্মাতা। প্রসূন জানান, দেশে মুক্তির আগে মোট ৫টি চলচ্চিত্র উৎসবে দেখানো হবে ‘প্রিয় সত্যজিৎ’।
এ বিষয়ে প্রসূন বলেন, ‘উপমহাদেশের কিংবদন্তী চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে নির্মিত ট্রিবিউট ফিল্ম ‘প্রিয় সত্যজিৎ’ নির্মাণ শেষে সেন্সর ছাড়পত্র পেয়েছে গত এপ্রিলে। পরিকল্পনা ছিল ২মে সত্যজিৎ রায়ের জন্মদিন উপলক্ষে ছবিটি মুক্তি দেয়ার। কিন্তু একই সময় কোরবানির ঈদ হওয়ায় বড় বাজেটের ছবির পাশে ‘প্রিয় সত্যজিৎ’ ছবিটি মুক্তি দেয়া সম্ভব হয়নি। এরপর মুক্তির দৌড় থেকে পিছিয়ে পড়ে ছবিটি।’
দেশে মুক্তির আগে মোট ৫টি আন্তর্জাতিক মানের চলচ্চিত্র উৎসবে ‘প্রিয় সত্যজিৎ’ দেখানো হবে জানিয়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় ফেসবুকে প্রসূন রহমান লিখেন, এ মুহূর্তে কয়েকটি চলচ্চিত্র উৎসবে অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছে ‘প্রিয় সত্যজিৎ’। প্রথমেই আন্তর্জাতিক প্রিমিয়ার হতে যাচ্ছে কানাডার ভ্যাংকুবার সাউথ এশিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভালে। ১২ নভেম্বর ভ্যাংকুবারের ‘এসএফইউ’ থিয়েটারে দুপুর দেড়টায় প্রদর্শিত হবে ছবিটি। এরপর ২৭ নভেম্বর ছবিটির ইউরোপিয়ান প্রিমিয়ার হবে ইটালির ফ্লোরেন্স ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভালে। ইউরোপের পর ছবিটির এশিয়ান প্রিমিয়ার হবে ভারতের কেরালা ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভালে। ৯ দিনব্যাপী এ উৎসব অনুষ্ঠিত হবে ডিসেম্বরের ৯ থেকে ১৬ তারিখ পর্যন্ত। কেরালার পর ‘প্রিয় সত্যজিৎ’ প্রদর্শিত হবে ভারতের আরো একটি সম্মানজনক উৎসব– জয়পুর ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভালে। উৎসবটি অনুষ্ঠিত হবে ২০২৩ সালের ৬ থেকে ১০ জানুয়ারি। ৪টি সম্মানজনক আন্তর্জাতিক উৎসবে প্রদর্শনীর পর ছবিটির ন্যাশনাল প্রিমিয়ার হবে ২১তম ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে। সেটি হবে বাংলাদেশে ছবিটির প্রথম প্রদর্শনী। রেইনবো ফিল্ম সোসাইটি আয়োজিত দেশের সবচেয়ে বড় ও সম্মানজনক এ উৎসবটি অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৪ থেকে ২২ জানুয়ারি।
নির্মাতা আরও বলেন, ‘প্রিয় সত্যজিৎ’ চলচ্চিত্রটি আসলে উৎসবের কথা মাথায় রেখে নির্মিত হয়নি। ভিনদেশের কোনো উৎসবের আগে নিজেদের দর্শককে দেখাতে পারলে ভালো লাগতো। জন্মশতবর্ষের উপলক্ষটা ধরে প্রদর্শন করতে পারলে আরো বেশি ভালো লাগতো। তবুও প্রদর্শন শুরু হতে যাচ্ছে সেটা আনন্দের। আমরা জানি, শুধু বাংলা ভাষা-ভাষি দর্শকই নয়, সারা পৃথিবী জুড়েই সত্যজিৎ রায়ের গুণমুগ্ধ দর্শক ও অনুসারি রয়েছেন। তাই উৎসবের বাইরেও চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে এই ছবিটির একটা আবেদন হয়তো সবসময়ই থেকে যাবে। আমরা যারা সত্যজিৎ রায়ের ছবি দেখতে দেখতে এবং অন্য সকল সৃজনশীল চলচ্চিত্রকে উদযাপন করতে করতে বেড়ে উঠেছি, এটা আমাদের সবার পক্ষ থেকে একটা আন্তরিক ট্রিবিউট হয়ে উঠুক এটাই প্রত্যাশা।
গত বছর কিশোরগঞ্জের মসূয়া’য় সত্যজিৎ রায়ের দাদা উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধূরীর বাড়িসহ আরো দুটি জায়গায় এবং পুরান ঢাকার একটি বাড়িতে শেষ হয়েছে ‘প্রিয় সত্যজিৎ’ এর চিত্রধারণের কাজ। গল্পসূত্র হিসেবে জানা যায়, এর কাহিনী ৩ সময়ের ৩ জন চলচ্চিত্র নির্মাতাকে নিয়ে। প্রথমজন সত্যজিৎ রায় নিজে। যিনি উপস্থিত না থেকেও সেখানে বিরাজমান। আর অন্য দুজন পরবর্তী ২ প্রজন্মের। সত্যজিৎ রায় ও তার সৃষ্টিকে সাথে নিয়ে তার দাদা উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরীর বাড়ি পরিভ্রমণের সূত্রে নবীন নির্মাতা অপরাজিতা হক আবিস্কার করে, সত্যজিৎ রায় নির্মিত ‘অপু ট্র্রিলজি’র সাথে জুড়ে থাকা প্রবীণ নির্মাতা আসিফ মাহমুদের অন্য এক গল্প। আবিস্কার করে নির্মাণের আড়ালে থাকা নির্মাতার অজানা অধ্যায়। যেখানটায় আলো পড়েনা কখনো।
প্রবীণ নির্মাতা আসিফ মাহমুদের চরিত্রে অভিনয় করেছেন আহমেদ রুবেল আর নবীন নির্মাতা অপরাজিতার চরিত্রে অভিনয় করেছেন মৌটুসী বিশ্বাস। আরো কয়েকটি বিশেষ চরিত্রে রয়েছেন পংকজ মজুমদার, সাইদ বাবু, সঙ্গীতা চৌধুরী, লাবন্য চৌধুরী, এহসানুল হক, নুসরাত জাহান নদী ও আবীর।







