বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ফখরুল সাহেব, দুনিয়ায় অবস্থা ভালো না। অনেক উৎসাহিত হচ্ছেন। কারণ পশ্চিমারা নাকি উৎসাহ দিচ্ছে। তাদের (আমেরিকার) নিজেদের ঘর সামলানোই কঠিন। তারা ঘর সামলাবে নাকি আপনাকে উৎসাহ দেবে? উৎসাহ দেয়ার দিন শেষ।’
বুধবার আওয়ামী লীগের ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আয়োজিত শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শেখ রাসেলের ৬০ তম জন্মদিন উপলক্ষে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তর আওয়ামী লীগ এ সমাবেশের আয়োজন করে।
ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী থাকবেন। আমিও বার্তা দিয়ে দিচ্ছি। শেষ বার্তা। আমি আপনাকে শেষ বার্তা এটাই দিচ্ছি আগামী নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসনা নির্বাচনী সরকারের প্রধানমন্ত্রী থাকবেন। নির্বাচনেফ পর ইনশাআল্লাহ জনগনের ভোটে নির্বাচিত হয়ে আবারও শেখ হাসিনার প্রধানমন্ত্রীর পদে বসবেন।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, মির্জা ফখরুলের পকেট গরম। মাল পানি ভালো সরবরাহ। পকেট গরম। ওনার কথাও গরম। হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন, আমাদেরকে ধমক দেয়। মির্জা ফখরুল পাঁচ তারা হোটেলে নাস্তা করে অনশন করে ৩ ঘণ্টা। আড়াই ঘণ্টা পর বিদেশি জুস খাইয়া অনশন বন্ধ করে দেয়। এই আন্দোলন তারা করছে।
কাদের বলেন, আমাদের বার্তা দিচ্ছে৷ দিনক্ষণ বলে দিচ্ছে কবে ক্ষমতা ছেড়ে দিতে হয়। আমি বলে দিতে চাই, আজ নয় কাল, এভাবে বলবেন না। আপনি কে বার্তা দেয়ার? শেখ হাসিনা কার কাছে ক্ষমতা দেবে?
তিনি বলেন, শেখ হাসিনা পদত্যাগ করবেন? না। বাংলাদেশের ম্যাজিক লিডার শেখ হাসিনা।
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, খেলা হবে। বিএনপির বিরুদ্ধে, ভোট চুরির বিরুদ্ধে, দূর্নীতির বিরুদ্ধে, লুটপাটের বিরুদ্ধে, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে খেলা হবে৷ বিএনপি হলো খুনির দল। এদের হাতে রক্ত।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিএনপির যোগাযোগের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘উৎসাহিত হচ্ছেন, কারণ পশ্চিমারা নাকি উৎসাহ দিচ্ছে। ফখরুল সাহেব, দুনিয়ায় অবস্থা ভালো না। তাদের নিজেদের ঘর সামলানোই কঠিন। তারা ঘর সামলাবে নাকি আপনাকে উৎসাহ দেবে? উৎসাহ দেয়ার দিন শেষ।’
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, অবরোধ করবেন? পাল্টা অবরোধ দেব। দাঁড়াতে দেবো না। অবরোধ যারা করবে, তারাই সাধারণ মানুষের জন্য বাধা। তাদের বিরুদ্ধে মার্কিনীদের ব্যবস্থা কি হয়, সেটা দেখা হবে বলেও জানান ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শাজাহান খান, বিএনপির নেতা নাকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাস। বিদেশিরা না-কি বিএনপিকে সাহস দিচ্ছে। বিএনপি দেশের জনগণের উপর বিশ্বাস নেই। তাই বিদেশিদের উপর, পিটার হাসের উপরে তাদের ভরসা। বিএনপি যেন রাজপথ দখল করতে না পারে এজন্য নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকতে হবে।
মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, বিএনপি ২৮ তারিখের পরে যদি মাঠ নামে নাশকতা করে এমন পেঁদানি দিমু দিক খুঁজে পাবেন না। বিএনপিকে প্রতিহত করতে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মাঠে থাকার নির্দেশনা দেন তিনি।
অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, সংবিধান অনুযায়ী আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সংবিধানের বাইরে একচুল যাওয়ার সুযোগ নেই। নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের মধ্যে বিশৃঙ্খলা করতে বিএনপি অস্ত্র সংগ্রহ করছে। তারা অস্ত্র দিয়ে দেশের মধ্যে অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে সৃষ্টি করতে পারে। তাই নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহবান জানান।
মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন বলেন, বিএনপি হলে কুকুরের লেজ। তারা কখনো সোজা হবে না। তারা ভালো কিছু চোখে দেখে না। বিএনপিকে আর ছাড় দেওয়া যাবে না। বাংলার মাটি থেকে তাদের উচ্ছেদ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনাকে আবারও ক্ষমতায় আনতে হবে৷ দেশের উন্নয়ন অগ্রগতির জন্য শেখ হাসিনার কোনো বিকল্প নেই।
জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, বিএনপির দলের নেতারা খুনি। জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া , তারেক রহমানসহ তাদের দলের নেতৃত্ব দেওয়া সবাই খুনি। তারা খুনের রাজনীতিতে বিশ্বাসী। তারাই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে।
আব্দুর রহমান বলেন, বিএনপি ঢাকা ঘেরাও কর্মসূচি দিয়েছে। তাদের প্রতিহত করতে আওয়ামী লীগ দশ লাখ লোক জোর করবে। সেখানে সবাই বিএনপিকে প্রতিহত করতে লাঠি হাতে আসতে হবে।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফির সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
এছাড়া শান্তি উন্নয়ন সমাবেশে বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শাজাহান খান, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, ডা.মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, কামরুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম। এছাড়া আরও বক্তব্য দেন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন মেয়রসহ ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ।








