শেরপুরে সদর উপজেলার লছমনপুর এলাকায় দোজা পীরের মুর্শিদপুর দরবার শরীফে পীরবিরোধীদের হামলা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আজ শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) দিনভর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করেছে।
বৃহস্পতিবার রাতে ফেসবুকে পীরের মুরিদদের দরবার অভিমুখে লংমার্চের ঘোষণা এবং পীরবিরোধীদের জমায়েত হওয়ার আহ্বানকে কেন্দ্র করে এমন উত্তেজনাক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এনিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও সতর্ক অবস্থায় বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিতে দেখা যায়। স্থানীয় কুসুমহাটি বাজার এবং এবং জামতলা এলাকার দোকানপাটও বন্ধ থাকে। লছমনপুর এবং আশপাশের এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ-উৎকন্ঠা লক্ষ্য করা যায়।
অন্যদিকে, মুর্শিদপুর দরবার শরীফে হামলার পর পীরভক্তরা সেখান থেকে চলে গেলে প্রায় ২০০ একর জায়গা নিয়ে গড়ে ওঠা দরবার ফাঁকা পেয়ে লুটপাট চালায় দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার দিনে বেলায় গরু-ছাগল, ভেড়া, দুম্বা, ইট, টিন, টাকা, হাঁড়ি-পাতিল, ডেকচি, পুকুরের মাছসহ বিভিন্ন ধরনের মালামাল লুট করা হয়। শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকে দরবারের শত শত পুরনো গাছ কাটা শুরু করে এবং ভবনের টিন ও লোহার এঙ্গেল সহ বিভিন্ন ধরনের মালামাল শত শত গাড়ি ভর্তি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। রাতভর এবং শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত চলে এমন লুটের তাণ্ডব।
সকাল ১০টার দিকে জামালপুর ব্রহ্মপুক্র সেতু সংলগ্ন এলাকায় পীরভক্তদের একটি মিছিলকে দরবারের দিকে আসার চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের নিবৃত্ত করেন। কিন্তু দুপুর একটার দিকে বিভিন্ন এলাকা থেকে লাঠিসোঠা নিয়ে মিছিল করে প্রায় দুই হাজারের মতো পীরভক্ত দরবারের দখল নেয়। সেসময় দরবারের ভেতরে ও বাইরে লুটের কাটা গাছ ও মালামাল বোঝাই করা অবস্থায় অন্তত ১৩টি যানবাহনে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। সংবাদ পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে পরীভক্তদের নিবৃত্ত করেন। এসময় দরবারে লুটপাটের অভিযোগে ৩ জনকে আটক করা হয়। পীরভক্তরা প্রায় তিনঘন্টা দরবারে অবস্থান করে ক্ষয়ক্ষতি ও লুটপাটের ভয়াবহ চিত্র দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের বিচার ও শাস্তির দাবি করেন।
অপরদিকে, দরবারের পীরভক্তদের আগমনের সংবাদ পেয়ে শেরপুর শহরের অষ্টমীতলা এলাকায় পীরবিরোধীরা জড়ো হতে চেষ্টা করে।একপর্যায়ে তারা শেরপুর-জামালপুর সড়কের শেরীব্রীজ এলাকায় কাঠের গুড়ি ফেলে সড়ক অবরোধের চেষ্টা করে। এজন্য কিছু সময় সেখানে যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ সেখানে হাজির হয়ে সড়ক অবরোধ তুলে দেয় এবং বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
এ বিষয়ে পুলিশ সুপার মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে লছমনপুর এলাকার পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন ও টহল জোরদার করা হয়েছে।
৫ আগস্টের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকেই শরিয়ত পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে শেরপুর সদরের লছমনপুর এলাকায় খাজা মোহাম্মদ বদরুদ্দোজা হায়দার ওরফে দোজা পীরের মুর্শিদপুর দরবার শরীফের কার্যক্রম বন্ধের হুমকি দিয়ে আসছিলেন স্থানীয় কওমীপন্থী মাদ্রাসার শিক্ষক-ছাত্র ও তাদের অনুসারিরা। এ নিয়ে বেশ কয়েকবার উভয়পক্ষের মাঝে দ্বন্দ্ব-সংঘাত হয়। গত ২৬ নভেম্বর মঙ্গলবার ভোরে দোজা পীরের দরবারে হামলার ঘটনা ঘটে। এসময় স্থানীয় তৌহিদী জনতা ও দরবারের মুরীদদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১৩ জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে ২৭ নভেম্বর বুধবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দরবার বিরোধী পক্ষের হাফেজ উদ্দিনের মৃত্যু ঘটে। এ মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তৌহিদী জনতা ২৮ নবেম্বর পীরের দরবারে হামলা চালিয়ে গুড়িয়ে দেয়।









