দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’র মোকবেলায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসন সেন্টমার্টিনের জন্য নিয়েছে বিশেষ প্রস্তুতি। দ্বীপটিকে দেওয়া হচ্ছে বাড়তি গুরুত্ব। এরইমধ্যে ২০০ স্বেচ্ছাসেবকের পাশাপাশি পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ স্থানীয় প্রশাসন।
শুক্রবার সকালে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন জানায়, সেন্টমার্টিনের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে দ্বীপটি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকলেও সেখানে খাদ্যের ঘাটতি থাকবে না, মজুদ করা হয়েছে পর্যাপ্ত খাবার।
এছাড়াও আলাদা বিশেষ বরাদ্দও দেওয়া হয়েছে দ্বীপটির জন্য। আর সকল পাকা ভবনে পাঁচ হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয় দেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যারা স্থানীয় নয় তাদের অনেকেই এরই মধ্যে সেন্টমার্টিন ছেড়েছে।
উপজেলা প্রশাসন বলছে, দুর্যোগে স্থানীয়দের জন্য উপজেলায় সরকারি-বেসরকারি ৮৭টি আশ্রয়কেন্দ্রসহ শতাধিক হোটেল-মোটেল ও ডাকবাংলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বিশেষ জোন হিসেবে সেন্টমার্টিন, শাহপরীর দ্বীপের জন্য নৌবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, কোস্টগার্ড, ফায়ার সার্ভিস ও মেডিক্যাল টিমসহ স্বেচ্ছাসেবীদের প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।
এদিকে ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’র বর্তমান অবস্থান নিয়ে সকালে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এতে বলা হয়, ‘মোখা’ এখন চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে এক হাজার ৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে এক হাজার ২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে এক হাজার ৫৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে এক হাজার ২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছে। এটি আরও উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হতে পারে বলে মনে করছেন আবহাওয়া অধিদপ্তর।
এছাড়াও দেশের চারটি সমুদ্রবন্দরে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেওয়া হয়েছে। সাগরে সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছে সাবধানে চলাচল করতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।









