সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তার সরকারের মন্ত্রী, এমপি এবং বেশ কয়েকজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে এবার গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় অভিযোগটি দায়ের করেন নাসিব হাসান রিয়ান এর বাবা আব্দুর রাজ্জাক। গত ৫ আগস্ট মিরপুর বিসিআইসি কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষের ছাত্র নাসিব হাসান রিয়ান নিহত হন।
অভিযোগটিকে কমপ্লেইন্ট রেজিস্টারভুক্ত করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন ১৯৭৩ এর ৮ ধারা অনুযায়ী আসামীদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। যেখানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৩ এর ৩(২) ও ৪(১)/৪(২) ধারা অনুযায়ী গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।
অপরাধের ধরনে বলা হয়, আসামীদের প্ররোচনা, উস্কানি, পরিকল্পনা ও নির্দেশে অন্যান্য আসামী কর্তৃক বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারীদের সমূলে বা আংশিক নির্মূল করার উদ্দেশ্যে দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্র দ্বারা নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে সাধারণ নিরীহ নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাদের হত্যা, নির্যাতন, আটক ও গুম করার মাধ্যমে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে।
যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ
১. শেখ হাসিনা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও সভানেত্রী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।
২. ওবায়দুল কাদের, সাবেক সেতুমন্ত্রী ও সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।
৩. আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী।
৪. মো. আনিসুল হক, সাবেক আইনমন্ত্রী।
২৫. হাসান মাহমুদ, সাবেক পরাষ্ট্রমন্ত্রী।
৬. হাসানুল হক ইনু, সাবেক তথ্যমন্ত্রী।
৭. মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী।
৮. জুনায়েদ আহমেদ পলক, সাবেক ডাক টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী।
৯. মোহাম্মদ আলী আরাফাত, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী
৯ সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক।
১০. আতিকুল ইসলাম, সাবেক মেয়র, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন।
১১. চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাবেক আইজিপি।
১২. হারুন আর রশিদ, অতিরিক্ত আইজিপি ও সাবেক ডিবি প্রধান।
১৩. হাবিবুর রহমান, ডিএমপি কমিশনার ও কতিপয় অসাধু পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্য।
১৪. মো. হারুন অর রাশিদ, সাবেক মহাপরিচালক, র্যাবসহ কতিপয় অসাধু র্যাব কর্মকর্তা ও সদস্য।
১৫. বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক যুগ্ম কমিশনার, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।
১৬. জিয়াউল আহসান, সাবেক মহাপরিচালক (এনটিএমসি)।
১৭. মো. মাহাবুব রহমান, অফিসার ইনচার্জ (ওসি), আদাবর থানা ডিএমপি, ঢাকা।
১৮. সাদ্দাম হোসেন, সভাপতি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।
১৯. শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্র লীগ ও কতিপয় অজ্ঞাতনামা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলীয় নেতা কর্মী।
২০. এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, সাবেক বিচারপতি, আপীল বিভাগ।
২১. মুহামম্মদ জাফর ইকবাল, অধ্যাপক, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট।
২২. নিঝুম মজুমদার, আইনজীবী ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট।
২৩. মেজবাহ কামাল, অধ্যাপক, ইতিহাস বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
২৪. নাঈমুল ইসলাম খান, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব।
২৫. ইকবাল সোবহান চৌধুরী, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা।
এছাড়াও ২৭ জন সাংবাদিকের নামসহ কতিপয় সাংবাদিক, অনলাইন এক্টিভিস্ট ও কথিত সুশীল ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়েছে।
এতে বলা হয়, ২০ থেকে ৪৯ নং আসামীরা আওয়ামী লীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক সংগঠিত মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যাকে বৈধতা দেয়ায় প্ররোচনা ও উস্কানি দেয়ার জন্য পরিকল্পিতভাবে আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতাদের দাবি ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে মিথ্যা খবর প্রচার করেছেন।
আর আহত-নিহতদের সঠিক তথ্য গোপন করার পাশাপাশি টক শো করে, কলাম লিখে ও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সত্য আড়াল করে গুজব ও মিথ্যা সংবাদ ছড়িয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করে। আন্দোলন চলমান অবস্থায় তারা আসামী শেখ হাসিনার সাথে দেখা করে ‘আমরা আপনার সাথে আছি’ বলে সরাসরি গণহত্যায় প্ররোচনা ও উস্কানি দেয়।









