মানবাধিকার দিবসের আগে বাংলাদেশে আটক ৪ সাংবাদিককে মুক্তির জন্য প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রেস স্বাধীনতা সংস্থা কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)।
সোমবার ৮ ডিসেম্বর পাঠানো এক চিঠিতে সিপিজে জানায়, ফারজানা রূপা, শাকিল আহমেদ, মোজাম্মেল বাবু ও শ্যামল দত্তকে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার রাখা হয়েছে, যা অবিশ্বাসযোগ্য, প্রমাণহীন এবং তাদের সাংবাদিকতা ও অনুমিত রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কারণে প্রতিশোধমূলক বলে মনে হচ্ছে।
চিঠিতে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকা সাংবাদিকদের পরিবার উদ্ধৃত তথ্য তুলে ধরে সিপিজে জানায়, তারা মাত্র ৩৬ বর্গফুটের ছোট সেলে বন্দী থাকেন। যেখানে দরজার পরিবর্তে লোহার গ্রিল থাকায় শীত ও মশার আক্রমণের মুখে পড়ছেন। কংক্রিটের মেঝেতে বিছানা ছাড়া ঘুমাতে হয়, খাবার পর্যাপ্ত নয় এবং চিকিৎসাসেবাও চরমভাবে অপ্রতুল।
এছাড়া সাংবাদিকদের আইনজীবী জেড আই খান পান্নার বিরুদ্ধেও সম্প্রতি হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে বলে চিঠিতে উদ্বেগ জানানো হয়।
সিপিজে চিঠিতে উল্লেখ করে, বাংলাদেশ সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সুরক্ষিত, একইভাবে আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সনদেও তা স্বীকৃত। সংস্থাটির মতে, বাংলাদেশকে অবশ্যই অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে হবে।
আসন্ন ১০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসকে সামনে রেখে সিপিজে প্রধান উপদেষ্টাকে আহ্বান জানিয়েছে, এমন পদক্ষেপ নিতে যাতে বাংলাদেশে আটক সাংবাদিকরা পরিবারে ফিরতে পারেন এবং কাজে ফিরতে পারেন।
সিপিজে জানায়, চলতি বছর মালয়েশিয়ায় গ্লোবাল ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম কনফারেন্সে বিশ্বজুড়ে ১০০টির বেশি দেশের দেড় হাজারেরও বেশি সাংবাদিক এই দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।
চিঠির শেষে সিপিজে লিখেছে, এই বিষয়ে আপনার ব্যক্তিগত মনোযোগ বাংলাদেশে মানবিক শাসন, ন্যায়বিচার ও উন্মুক্ত জনপরিসরের প্রতি অঙ্গীকারকে শক্তভাবে তুলে ধরবে।









