কক্সবাজারের রামু উপজেলার গর্জনিয়ায় অপহরণের পর সহোদর দুই শিশুকে হত্যার ঘটনায় দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ৫ জনের মৃত্যুদন্ড এবং ৪ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত।
মঙ্গলবার ২১ অক্টোবর, দুপুরে কক্সবাজারের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক আব্দুল গণি এই রায় ঘোষণা করেন।
আদালতের দেওয়া আদেশ সুত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ১৭ জানুয়ারি বিকালে রামুর গর্জনিয়াতে মোহাম্মদ ফোরকানের ছেলে সহোদর দুই শিশু মোহাম্মদ হাসান শাকিল (১০) ও মোহাম্মদ হোছাইন কাজলকে (৮) অপহরণ করে আসামিরা। পরে তাদের পারিবারের কাছে ফোনে চার লাখ টাকা মুক্তিপণের দাবি করা হয়। এরপর দুই শিশুর পরিবার আসামিদের দাবিকৃত মুক্তিপণ না দিয়ে পুলিশকে খবর দিলে আসামিরা ওই দুই শিশুকে হত্যা করে গর্জনিয়া খালে মরদেহ ভাসিয়ে দেয়। তিন দিন পর ২০১৬ সালের ২০ জানুয়ারি তাদের মরদেহ উদ্ধার হয়।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিহত শিশুদের পিতা মোহাম্মদ ফোরকান বাদী হয়ে রামু থানায় মামলা দায়ের করেন। রামু থানা পুলিশ মামলাটি তদন্ত করে আদালতে চার্জশিট দেয়।
দীর্ঘ নয় বছর মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল-২ এর বিচারক আব্দুল গনি আজ দুপুরে মামলার রায় প্রদান করেন।
মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত আসামিরা হলো মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, আব্দু শুক্কুর, আলমগীর হোসেন (প্রকাশ বুলু), মিজানুর রহমান, মো. শহীদুল্লাহ। একই সাথে তাদের ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্তরা হলেন আবদুল মজিদ, ফাতেমা খাতুন, রাশেদা ও লায়লা বেগম।
এ রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বাদী ও কক্সবাজারের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি এডভোকেট মীর মোশাররফ হোসেন টিটু বলেন, দীর্ঘ নয় বছর বিচার প্রক্রিয়া শেষে আদালত সাক্ষ্য, প্রমাণ ও ঘটনাপরিস্থিতি বিবেচনা করে আসামিদের অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তাই আইনের বিধান অনুযায়ী পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও চারজনকে যাবজ্জীবন দিয়েছেন আদালত। রাষ্ট্রপক্ষ এই রায়ে সন্তুষ্ট।
প্রধান আসামি জাহাঙ্গীর আলম রায় ঘোষণার সময় উপস্থিত থাকলেও দণ্ডিত অন্য আসামিরা পলাতক রয়েছে।
এ ছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলা থেকে মোকারমা সুলতানা পুতু নামের এক তরুণীকে খালাস দেওয়া হয়েছে।









