যুক্তরাষ্ট্রের এক আদালত ইসরায়েলি স্পাইওয়্যার নির্মাতা এনএসও গ্রুপকে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের টার্গেট করা থেকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করেছে। আদালত রায়ে জানিয়েছে, এনএসওর কর্মকাণ্ড ‘মেটাকে অপরিবর্তনীয় ক্ষতি’ করেছে এবং তাদের সফটওয়্যার হোয়াটসঅ্যাপের মূল উদ্দেশ্য—ব্যক্তিগত গোপনীয়তা—লঙ্ঘন করছে।
আল জাজিরা জানিয়েছে, শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) ক্যালিফোর্নিয়ার জেলা আদালতের বিচারক ফিলিস হ্যামিলটন এই রায়ে বলেন, এনএসওর আচরণ চলমান এবং এটি হোয়াটসঅ্যাপের ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা নষ্ট করছে। হোয়াটসঅ্যাপ যে বিষয়টি বিক্রি করছে, তা হলো তথ্যগত গোপনীয়তা। অননুমোদিত প্রবেশ সেই সেবাকে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
হ্যামিলটন জানান, বিচারপ্রক্রিয়ায় প্রমাণ পাওয়া গেছে যে এনএসও হোয়াটসঅ্যাপের কোড রিভার্স-ইঞ্জিনিয়ারিং করে গোপনে তাদের পেগাসাস স্পাইওয়্যার ইনস্টল করেছে এবং বারবার সেটি নতুনভাবে ডিজাইন করেছে যাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থাগুলো এড়িয়ে যেতে পারে। আদালত এই ঘটনায় ১৬৮ মিলিয়ন ডলারের জরিমানার পূর্ববর্তী রায়কে অতিরিক্ত বলে রায়টি সংশোধন করে জরিমানার পরিমাণ কমিয়ে মাত্র ৪ মিলিয়ন ডলার নির্ধারণ করেছে।
বিচারক বলেন, স্মার্টফোন যুগে অবৈধ নজরদারির ঘটনা এখনও এত বেশি নয় যে আদালত এই অপরাধকে অত্যন্ত জঘন্য বলে ঘোষণা করতে পারে। এনএসওর বিরুদ্ধে বিস্তৃত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা প্রয়োজন, কারণ তারা বিভিন্ন পদ্ধতিতে (যেমন মিসড কল বা জিরো-ক্লিক আক্রমণ) ব্যবহারকারীর ফোনে গুপ্তচর সফটওয়্যার ঢোকানোর চেষ্টা চালিয়েছে এবং তাদের কার্যক্রম সবসময়ই গোপনীয়ভাবে পরিচালিত হয়েছে।
এনএসও গ্রুপ, ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং ইসরায়েলের তেল আবিবের কাছে হার্জলিয়াতে অবস্থিত একটি প্রযুক্তি কোম্পানি। তাদের তৈরি স্পাইওয়্যার পেগাসাস দাবি করা হয় সন্ত্রাসবিরোধী ও অপরাধ দমন কার্যক্রমে সহায়ক হিসেবে, যা দূর থেকে ব্যবহারকারীর ফোনে গুপ্তচর সফটওয়্যার ইনস্টল করতে পারে।
তবে মেটা (হোয়াটসঅ্যাপের মূল কোম্পানি) ২০১৯ সালে ক্যালিফোর্নিয়া ফেডারেল কোর্টে মামলা করে অভিযোগ তোলে যে এনএসও তাদের এনক্রিপ্টেড মেসেজিং সেবা ব্যবহার করে সাংবাদিক, আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মীদের ওপর গুপ্তচরবৃত্তি চালিয়েছে।









