সাধারণত কাশি হলে আমরা সেটাকে ঠান্ডা বা অ্যালার্জির জন্য হয়েছে বলে মনে করে থাকি। কিন্তু বিশেষ করে শীতকালে বায়ু দূষণ একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হয়ে উঠে। ক্ষুদ্র দূষক কণা ও গ্যাস এমনভাবে কাজ করে যেন ক্ষুদ্র বালির দানা বা রাসায়নিক উদ্দীপক, যা শ্বাসনালীর ঝিল্লি উত্তেজিত করে। ফলে গলা খসখসে করে এবং কাশি হয়, যা এক বা একাধিক সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
গবেষকরা দেখেছেন, পিএম ২. ৫ (ক্ষুদ্র দূষক কণা) বাড়ার পর কাশির হার সঙ্গে সঙ্গেই বেড়ে যায়। অর্থাৎ দূষণের প্রভাব তাৎক্ষণিকও হয় কিন্তু বেশি ভাগ ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী হয় না। এ কারণেই অনেক হাসপাতালে বায়ু দূষণের মাত্রা বেড়ে গেলে শ্বাসনালীর সমস্যা নিয়ে রোগীর সংখ্যা বেড়ে যায়।
নিচে আমরা কিছু সহজ উপায় তুলে ধরছি, যা উচ্চ দূষণে কাশি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করবে।
বায়ু দূষণে কাশি নিয়ন্ত্রণের টিপস
১. আগে বায়ুর গুণমান সূচক (একিউআই) যাচাই করুন
একিউআই.ইন এর মতো নির্ভরযোগ্য অ্যাপ ব্যবহার করুন। যখন একিউআই “দুর্বল” বা তার চেয়ে খারাপ হয়, তখন বাইরের ভারী কার্যকলাপ এড়িয়ে চলুন। সংক্ষিপ্ত ইনডোর হাঁটাহাঁটি করতে পারেন।
২. মাস্ক ব্যবহার করুন
এন৯৫/এফএফপি২ মাস্ক পিএম২.৫ অনেক ভালোভাবে ফিল্টার করে। বাইরের উচ্চ দূষণে, বিশেষ করে ট্রাফিক বা নির্মাণ এলাকায় মাস্ক ব্যবহার করুন। মুখের সাথে ফিট থাকা জরুরি, কারণ ফাঁক দিয়ে কণা ঢুকে যেতে পারে।
৩. বাড়িতে স্বাস্থ্যকর বায়ু তৈরি করুন
ধোঁয়ার সময় জানালা বন্ধ রাখুন এবং এইচইপিএ ফিল্টারযুক্ত এয়ার পিউরিফায়ার স্প্রে করুণ। পোর্টেবল পিউরিফায়ারও ইনডোর পিএম২.৫ কমায় এবং কাশির ঝুঁকি হ্রাস করে। পিউরিফায়ার না থাকলে, ইনডোর গাছ রাখুন এবং ধোঁয়া উৎপন্ন উৎস (চুলা, ধূপ, সিগারেট) এড়িয়ে চলুন।
৪. আর্দ্রতা বজায় রাখুন
শুকনো বাতাস ও দূষণ কাশির জন্য খারাপ। হিউমিডিফায়ার (পরিষ্কার রাখা) বা রেডিয়েটরের ওপর পানি রাখলে হালকা আর্দ্রতা বজায় থাকে, মিউকাস ঘন হয় না এবং কাশি কমে।
৫. গরম লবণপানি গার্গল ও স্টিম
গরম লবণপানি গার্গল গলার ঝিল্লি শান্ত করে। ৫–১০ মিনিটের সংক্ষিপ্ত স্টিম ইন্হেলেশন মিউকাস ঢিলে করে এবং কাশির মাত্রা কমায়। অ্যাজমা থাকলে সতর্কতা অবলম্বন করুন।
৬. পানীয় সঠিকভাবে গ্রহণ করুন
পর্যাপ্ত পানি পান করুন। হার্বাল টি, লেবু পানি, স্যুপ (সুস্পষ্ট ব্রথ) মিউকাস পাতলা করতে সাহায্য করে। আদা ও তুলসীর মতো প্রাকৃতিক এক্সপেক্টোরেন্ট খাবারও উপকারী।
৭. জরুরি ওষুধ ব্যবহার
অ্যাজমা রোগীদের জন্য দ্রুত-কার্যকর ইনহেলার ও কন্ট্রোলার ওষুধ রাখুন। ভারী কাশির ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শে কাশির ঔষধ বা ইনহেলড স্টেরয়েড প্রয়োজন হতে পারে। নিজের মতো ওষুধ গ্রহণ করবেন না।
৮. নাসার যত্ন
নিয়মিত লবণপানি নাক ধোয়া (নেতি পট বা স্প্রে) নাকের মধ্যে জমা কণা দূর করে এবং পোস্ট-নেজাল ড্রিপ কমায়। এটি সস্তা, কার্যকর ও নিরাপদ।
৯. বাইরের কার্যক্রমের সময় নির্ধারণ করুন
অনেক শহরে দূষণ রাত বা ভিড়ের সময়ে বেশি থাকে। একিউআই মডারেট হলে মধ্যাহ্নে সংক্ষিপ্ত কাজ করুন; খারাপ হলে অপ্রয়োজনীয় আউটডোর কার্যক্রম স্থগিত করুন।
১০. ফুসফুসের স্বাস্থ্য শক্তিশালী করুন
ধূমপান বন্ধ করুন, ইনডোর ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণ করুন, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখুন এবং শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যায়াম করুন। সময়ের সঙ্গে দূষণজনিত কাশির মাত্রা কমে এবং পুনরুদ্ধার দ্রুত হয়।
খারাপ একিউআই শুধু চোখে চুলকানি দেয় না, এটি সরাসরি শ্বাসনালী উত্তেজিত, প্রদাহিত এবং কখনও কখনও আঘাতও করে, যার ফলে কাশি হয়। মাস্ক, পিউরিফায়ার, একিউআই সচেতন পরিকল্পনা এবং বাড়িতে সহজ যত্ন যেমন হাইড্রেশন, লবণপানি ও স্টিম কাশি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত সাহায্য করে। দীর্ঘস্থায়ী বা গুরুতর কাশির ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি, বিশেষত যদি ফুসফুসের কোনো সমস্যা থাকে।









