ইতিহাসে ব্রাজিল-উরুগুয়ে দ্বৈরথ প্রাগৈতিহাসিক বলাটা ভুল হবে না। কোপা আমেরিকার সর্বপ্রথম আসরে দুদল প্রথমবার একে অপরের বিপক্ষে লড়েছিল। ১০৮ বছরের প্রাচীন লড়াইটা লাতিন অঞ্চলের মানুষের কাছে এখনো উপভোগ্য। কোপার চলতি আসরে সেমিফাইনালে যাওয়ার দৌড়ে তারা মুখোমুখি হওয়ার অপেক্ষায়।
রোববার টুর্নামেন্টের চতুর্থ ও শেষ কোয়ার্টার ফাইনালে নামবে ব্রাজিল ও উরুগুয়ে। নেভাডার লাস ভেগাসে অ্যালেজিয়েন্ট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় শুরু হবে ম্যাচ।
সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এপর্যন্ত লাতিন অঞ্চলের দুদল ৭৯বার মুখোমুখি হয়েছে। জয়ের হিসেবে অনেকখানি এগিয়ে সেলেসাও বাহিনী। সাম্বার দেশটির ৪০ জয়ের বিপরীতে উরুগুয়ের জয় ২২টিতে। বাকি ১৭ ম্যাচ হয়েছে ড্র।
১৯১৬ সালে কোপায় প্রথমবার দল দুটি একে অন্যের বিপক্ষে খেলেছিল। সেবার ২-১ গোলে জিতেছিল উরুগুয়ে। একইবছর আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে এক গোলের জয় পায় ব্রাজিল।
শতাব্দী প্রাচীন কোপা আমেরিকায় প্রতিবেশী দুই রাষ্ট্র ২৬বার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। ব্রাজিল ও উরুগুয়ে সমান ১১ ম্যাচে জয়ের স্বাদ নিয়েছে। বাকি ৪ ম্যাচ ড্রয়ের মুখ দেখেছে।
বিশ্বকাপে অবশ্য দুবারের বেশি তাদের দেখা হয়নি। ১৯৫০ বিশ্বকাপ ফাইনালে উরুগুয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে ঘরের মাঠে শিরোপা হাতছাড়ার বেদনায় পুড়েছিল ব্রাজিল। সেই হৃদয়বিদারক হারে আশ্চর্য-স্তব্ধ হয়েছিল ব্রাজিল; যাকে মারাকানজো (মারাকানা বিপর্যয়) হিসেবে অভিহিত করা হয়।
২০ বছর পর অবশ্য ব্রাজিলের স্বপ্নের দলের সামনে সেমিফাইনালে উরুগুয়ে পাত্তা পায়নি। ১৯৭০ সালের আসরে ৩-১ গোলের জয়ে সেলেসাওরা ফাইনালের টিকিট পায়। তৃতীয়বারের মতো শিরোপা জিতে জুলে রিমে ট্রফিটা চিরদিনের জন্য পেয়ে যায় সেলেসাও দল।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে চতুর্থ স্থানে আছে ব্রাজিল, ১৪তম স্থানে উরুগুয়ে। গতবছর অক্টোবরে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ২-০ গোলে জিতেছিল উরুগুয়ে। আগে টানা ১২ ম্যাচে অপরাজিত থাকার ধারাবাহিকতা রক্ষা করেছিল ব্রাজিল, যার ৯টিতে পেয়েছিল জয়।









