ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের সপ্তাহখানেক পর শিল্পকলার মহাপরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেন লিয়াকত আলী লাকী। তিনি ২০১১ সালের ৭ এপ্রিল থেকে এই পদে ছিলেন। সবশেষ ২০২৩ সালের ২৯ মার্চ সপ্তমবারের মত তার মেয়াদ বাড়ানো হয়। এত দীর্ঘ সময় এই দায়িত্বে থাকার নজির আর কারো নেই।
লাকীর পদত্যাগের পর শিল্পকলার মহাপরিচালক পদে কাকে দায়িত্ব দেয়া উচিত এ নিয়ে সংস্কৃতি অঙ্গন থেকে নানাজনের নাম আলোচিত হয়েছে। গত ক’দিন ধরে শোনা যাচ্ছিলো, এই পদে আসতে পারেন নাট্য ব্যক্তিত্ব ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সৈয়দ জামিল আহমেদ।
অবশেষে সেই কথাই সত্যি হলো। সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সৈয়দ জামিল আহমেদকে শিল্পকলার নতুন মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। যা প্রকাশিত হতেই রীতিমত অভিনন্দনের জোয়ারে ভাসছেন এই প্রবীন নাট্যজন।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, সাংষ্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, থিয়েটারকর্মী, শোবিজ অঙ্গন, গণমাধ্যমকর্মী থেকে শুরু করে অ্যাক্টিভিস্টরাও এ নিয়োগে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সেই উচ্ছ্বাস জানাচ্ছেন। সবাই বলছেন, শিল্পকলা প্রয়োজনীয় মহাপরিচালক পেল।
এ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর অধ্যাপক গীতিয়ারা নাসরিন লিখেছেন,“গণঅভ্যুত্থানকে বিপ্লব বলতে আমি নারাজ। তবে সৈয়দ জামিল আহমেদের শিল্পকলা একাডেমির দায়িত্ব নেওয়াটা বৈপ্লবিক বটে!”
শিক্ষক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সামিনা লুৎফা লিখেছেন,“শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেয়ায় বটতলার পক্ষ থেকে সৈয়দ জামিল আহমেদকে অভিনন্দন। আমরা দ্বিধাহীনভাবে বলতে চাই, শিল্প- সংস্কৃতির প্রসারে আমরা তাঁর পাশে থাকবো। তার অভিজ্ঞতা এবং কর্মে দীর্ঘদিন ঝিমিয়ে থাকা শিল্পাঙ্গন সচল হোক। সারাদেশে শিল্পের সাথে যুক্ত আমরা নিশ্চয়ই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবো।”
নাট্য নির্দেশক, সংগঠক মোহাম্মদ আলী হায়দার লিখেছেন, “সৈয়দ জামিল আহমেদকে অভিনন্দন!!! এত বছর পর শিল্পকলা একাডেমী একজন প্রয়োজনীয় মহাপরিচালক পেলো। দেশের সংস্কৃতির জন্য ভালো খবর!”
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও লেখক কাবেরী গায়েন লিখেছেন,“স্যার সৈয়দ জামিল আহমেদ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক নিযুক্ত হয়েছেন। এটা ভালো খবর শুধু নয়, আনন্দের খবর। আমার কাছে মুক্তিযুদ্ধের প্রতিনিধিত্বশীল উপন্যাসের মধ্যে নির্মেদ সেরা উপন্যাস শহীদুল জহীরের ‘জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা’। এই উপন্যাসের এমন রুপায়ন স্যার করেছেন মঞ্চে যে মনে হয়েছে উপন্যাসের প্রত্যেকটা চরিত্র শুধু নয় গোটা টেক্সট সামনে ঘোরাফেরা করছে। উনি যে নিরীক্ষাটি করেছেন তা হলো গোটা টেক্সটকেই চরিত্রে রুপান্তর। শহীদুল জহিরকে এমনভাবে আর কেউ ধারণ এবং উপস্থাপন করতে পারতেন কি না সন্দেহ করি। শহীদুল-জামিলের মেলবন্ধনে অভিভূত হয়েছিলাম। লিখেছিলাম সে’কথা যা অনেকের মনঃপুত হয়নি। পৃথিবীর যে কোন দেশে গেলেই আমি সেই দেশের অন্তত একটা থিয়েটার শো দেখার চেষ্টা করি। স্যার সেরাদের একজন। স্যার এই অধমের একটা সামান্য কাজের মুখবন্ধ লিখেছেন বছর দুই/তিন আগে। সেই মুখবন্ধ পড়ে আমি শরমিন্দা হয়েছি। লেখা বাহুল্য, সেই মুখবন্ধের সাথে আমার কাজের সামান্যই মিল। স্যারের সাথে আমার ব্যক্তিগত পরিচয় নেই। শুধুই মুগ্ধতা। তাঁর হাতে শিল্পকলা একাডেমি জমিনে ফিরবে এবং কাজ করবে এটা আমার দৃঢ় বিশ্বাস। এটা একটা সুযোগ বাংলাদেশের শিল্পাঙ্গনের জন্য। সাফল্য আসুক।”
চলচ্চিত্র নির্মাতা দীপংকর দীপন লিখেছেন,“সৈয়দ জামিল আহমেদ স্যারের সাথে আমার সরাসরি পরিচয় নেই। কিন্তু আমি তার ভীষণ গুণমুগ্ধ। আমি তাকে বৈশ্বিক মানের একজন নাট্য পরিচালক মনে করি। চাকা দিয়ে আমার মুগ্ধতা শুরু। সেটি ক্রমশ তীব্র হয়েছে তার শেষ তিনটি প্রযোজনা রিজওয়ান, জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা, অস্থির সময়ের গল্প ‘৪.৪৮ মন্ত্রাস’ দেখে। তিনি ভীষণ মেধাবী পরিচালক- থিয়েটারে তিনি এমন কিছু দৃশ্যকল্প তৈরী করেছেন- যেগুলো অকল্পনীয়, বিষ্ময়কর। তার প্রযোজনায় দর্শকের নাট্য অভিজ্ঞতা হয় অসাধারণ, দুর্দান্ত। থিয়েটার ছাত্র হিসাবে তার প্রতিটি প্রযোজনা আমার কাছে টেক্সট। আমার টাইমলাইন ঘাটলে তার শেষ প্রযোজনা নিয়ে আমার মুগ্ধতা পাওয়া যাবে। শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক পদে তার পদায়ন আমাদের ভীষণ আশাবাদী করে। আমি বিশ্বাস করি প্রশাসনিক কাজ সৃষ্টিশীল সত্ত্বাকে বিনষ্ট করবে না বরং তার ইস্পাত কঠিন ডিসিপ্লিন এর কারণে তিনি এখন আরো বেশি ও বড় পরিসরে কাজ করতে পারবেন এবং অন্যদের কাজের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরী করে দিতে সক্ষম হবেন। স্যারের জন্য অনেক শুভকামনা।”
শাহনাজ খুশি লিখেছেন,“অভিনন্দন স্যার। সার্বিক মঙ্গল কামনা করছি।” মহাপরিচালকের নিয়োগ সংবাদটি শেয়ার করে অভিনেত্রী বাঁধন লিখেছেন,“এটা সত্যিই অসাধারণ সংবাদ।” চলচ্চিত্র নির্মাতা খিজির হায়াত খান লিখেছেন,“আপনার জন্য শুভকামনা থাকলো স্যার। দুর্বৃত্তদের( লাকিদের) হাত থেকে মুক্ত হয়ে শিল্পকলা একাডেমি হোক প্রকৃত শিল্পচর্চার জায়গা।” নিয়োগ সংবাদটি শেয়ার করে অভিনেত্রী, নির্মাতা মেহের আফরোজ শাওন লিখেছেন,“আহা! মনটাই ভালো হয়ে গেল।”









