যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন এক নজিরবিহীন ঘটনা—দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী (ডিফেন্স সেক্রেটারি) পিট হেগসেথের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন সাবেক নাসা নভোচারী এবং অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর মার্ক কেলি। পেন্টাগন থেকে কেলির সামরিক পদমর্যাদা কমিয়ে দেওয়া এবং তার অবসর ভাতা (পেনশন) বাতিলের হুমকির জবাবে তিনি এই আইনি পদক্ষেপ নিলেন।
সাবেক এই নেভি ক্যাপ্টেনের অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসন এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ তার বাকস্বাধীনতা হরণ করছেন এবং তাকে ‘দেশদ্রোহী’ তকমা দিয়ে তার সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করছেন।
মামলার প্রেক্ষাপট ও মূল বিরোধ
ঘটনার সূত্রপাত গত বছরের নভেম্বরে প্রকাশিত একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে। ওই ভিডিওতে সিনেটর মার্ক কেলি এবং আরও পাঁচজন ডেমোক্র্যাটিক আইনপ্রণেতা (যারা সবাই সামরিক বা গোয়েন্দা বাহিনীর সাবেক সদস্য) মার্কিন সেনাদের প্রতি একটি বার্তা দিয়েছিলেন। তারা বলেছিলেন, সংবিধান অনুযায়ী ‘বেআইনি আদেশ’ মানতে সেনারা বাধ্য নন এবং তাদের উচিত তা প্রত্যাখ্যান করা।
এই ভিডিওটি প্রকাশের পর ট্রাম্প প্রশাসন তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখায়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বিষয়টিকে ‘বিদ্রোহ উসকে দেওয়া’ এবং ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে অভিহিত করেন। ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ কেলির ভিডিওটি শেয়ার করে এমন মন্তব্যও রি-পোস্ট করেছিলেন যেখানে বলা হয়েছে—তাদের জর্জ ওয়াশিংটনের মতো ‘ফাঁসি’ দেওয়া উচিত।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ আনুষ্ঠানিকভাবে কেলিকে ভর্ৎসনা করে একটি চিঠি দেন এবং তার সামরিক রেকর্ড থেকে পদাবনতি ও পেনশন সুবিধা বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করেন। হেগসেথের দাবি, কেলির বক্তব্য সামরিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী।
এর জবাবে সোমবার (১৩ জানুয়ারি, ২০২৬) ওয়াশিংটন ডি.সি.-র আদালতে ৪৬ পৃষ্ঠার একটি মামলা দায়ের করেন মার্ক কেলি। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন:
১. পেন্টাগন এবং হেগসেথ তার বাকস্বাধীনতা হরণ করার চেষ্টা করছেন।
২. একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য হিসেবে সরকারের সমালোচনা করার অধিকার তার রয়েছে।
৩. হেগসেথের এই পদক্ষেপ অন্য অবসরপ্রাপ্ত সেনাদের জন্য একটি ভীতিকর বার্তা দিচ্ছে—যেন সরকারের সমালোচনা করলেই তাদের পেনশন ও সম্মান কেড়ে নেওয়া হবে।
কেলি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “পিট হেগসেথ আমাদের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত প্রবীণ সেনাদের এই আতঙ্কে রাখতে চান যে, প্রেসিডেন্ট বা প্রতিরক্ষামন্ত্রীর অপছন্দ হয় এমন কিছু বললেই তাদের র্যাঙ্ক বা বেতন কেড়ে নেওয়া হবে। আমেরিকায় এমনটা চলতে পারে না এবং আমি এটা মেনে নেব না।”
এই আইনি লড়াই এমন এক সময়ে শুরু হলো যখন ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্বমঞ্চে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক অবস্থানে রয়েছে।
এরই মধ্যে নিজ দেশের ভেতরেই একজন হাই-প্রোফাইল সিনেটর ও সাবেক নভোচারীর সাথে প্রশাসনের এই প্রকাশ্য সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
মামলার বিষয়ে পেন্টাগন বা হোয়াইট হাউজ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, একজন সিটিং সিনেটরের (যিনি আবার সাবেক সামরিক কর্মকর্তা) বিরুদ্ধে পেন্টাগনের এমন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে বিরল এবং এটি আদালত পর্যন্ত গড়ানোয় ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য তা নতুন এক আইনি চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
মার্ক কেলি যুক্তরাষ্ট্রের একজন সম্মানজনক ব্যক্তিত্ব। তিনি মার্কিন নৌবাহিনীর একজন অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন এবং নাসার সাবেক নভোচারী। মহাকাশ স্টেশনে থাকাকালীন একবার গরিলা কস্টিউম পরে সহকর্মীদের চমকে দেওয়ার মতো রসবোধের জন্যও তিনি পরিচিত। তবে বর্তমানে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর সমালোচক হিসেবেই বেশি আলোচিত।চলছে। পুলিশের ওপর হামলায় জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চলমান রয়েছে।









