কিশোরগঞ্জে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ে “শিক্ষা ও গবেষণা ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তির ব্যবহার” শীর্ষক কলোকিয়াম-২ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরেণ্য শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. জেড এম পারভেজ সাজ্জাদ।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এ কলোকিয়ামে দৈনন্দিন জীবনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার, মেশিন লার্নিং সিস্টেমের বিষয়াবলি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাথে মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয় প্রভৃতি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ ছাড়াও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাক্ষেত্রে দায়বদ্ধতা, স্বচ্ছতা, ও সাইবার নিরাপত্তার গুরুত্ব নিয়েও আলোচনা করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. জেড এম পারভেজ সাজ্জাদ বলেন, ‘‘মানুষের প্রভু যেমন গড তেমনই ইন্টেলিজেন্স সিস্টেম এর প্রভু হচ্ছে মানুষ। অতএব ইন্টেলিজেন্স সিস্টেমগুলো মানুষ যেভাবে ডিজাইন করবে সেভাবেই কাজ করবে। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স সিস্টেম/প্রযুক্তি মানুষের মতোই কাজ করে। যেকোনো কাজ অথবা যেকোনো সমস্যা সমাধান করার ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে মূলত চারটি বিষয় কাজ করে—অভিজ্ঞতা, পুরানো তথ্যভান্ডার, বর্তমান তথ্য ও এনভায়রনমেন্ট এবং তথ্য বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা। সুতরাং এই চারটি বিষয়ে সমৃদ্ধ হলে কাজের ফলাফলও ভালো হবে।’’
উপাচার্য আরও বলেন, “সিস্টেমের কোন ক্লান্তি নাই তাই এটি বিরতিহীনভাবে কাজ করে যেতে পারে। কোন ভুল ভ্রান্তি হয় না। মানুষের ক্ষেত্রে যেটা হয়-মনোযোগ নষ্ট হলে বা ক্লান্তি চলে আসলে ভুল হতে পারে। ইন্টেলিজেন্স সিস্টেমের মাধ্যমে কাজ হলে ভুলভ্রান্তির সম্ভাবনা নাই এবং ওই সংক্রান্ত কাজের প্রোডাকশন বেশি হবে। অল্প সময়ে দ্রুত প্রচুর কাজ করা যাবে। যেসকল এনভায়রনমেন্টে মানুষের জন্য কাজ করা চ্যালেঞ্জিং, সেসকল ক্ষেত্রে ইন্টেলিজেন্স সিস্টেম কাজ করতে পারবে।”
তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, “আমরা চাই আমাদের ইন্টেলিজেন্স সিস্টেম কাজ করবে চ্যালেঞ্জিং এনভারমেন্টগুলোতে; যেমন যেখানে অতি উচ্চ তাপমাত্রায় কাজ করতে হয় বিশেষ করে বড় বড় ম্যানুফ্যাকচারিং ইন্ডাস্ট্রি, বোয়িং ইন্ডাস্ট্রি, কার ইন্ডাস্ট্রি ইত্যাদি। এছাড়া রেসকিউ অপারেশন যেমন বড় বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ- ভূমিকম্প, ঘূর্ণিঝড়, লঞ্চ এবং জাহাজডুবির মত ঘটনার ক্ষেত্রে। স্যাটেলাইট সিস্টেম, নভোযান সিস্টেম, মহাকাশ গবেষণা এবং স্পেস এক্সপ্লোরেশন ইত্যাদি ক্ষেত্রেও এর দারুণ ব্যবহার করা সম্ভব।”
তিনি আরও বলেন, “ন্যানো সার্জারি, যেমন ক্যান্সারের কথা বলি, এখন ক্যান্সারের সেলগুলো নষ্ট করার জন্য কেমোথেরাপি দেয়া হয়, এতে ওই সেলের সাথে আরও দরকারি অন্যান্য সেল ড্যামেজ হয়। সুতরাং ইন্টেলিজেন্ট ন্যানো রোবট কাজে লাগতে পারে শুধুমাত্র ক্যান্সার সেলগুলো ড্যামেজ করার জন্য।”
হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক আসমা আক্তার সুমির সঞ্চালনায় মূল আলোচক হিসেবে ঘণ্টাব্যাপী বক্তব্যে আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা, উন্নততর গবেষণাকর্ম ও শিক্ষার বৈশ্বিকীকরণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োজনীয়তার উপর আলোকপাত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রভাষক আল আমিন বিশ্বাস।







