বিশ্ব সিনেমার ইতিহাসে সবচেয়ে আইকনিক ব্যক্তিত্বদের একজন ক্লডিয়া কার্ডিনালে আর নেই। ফ্রান্সের প্যারিসের নেমুর শহরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ইতালীয় সিনেমার এই কিংবদন্তী। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ফ্রান্সেই বসবাস করে আসছিলেন।
মৃত্যুকালে এই মহান অভিনেত্রীর বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। তার এজেন্ট লরেন্ট সভ্রি সংবাদমাধ্যমকে জানান, “তিনি আমাদের জন্য রেখে গেলেন এক অনুপ্রেরণাদায়ী ও স্বাধীনচেতা নারীর উত্তরাধিকার- ব্যক্তিগত জীবনেও, শিল্পী হিসেবেও।”
১৯৩৮ সালের ১৫ এপ্রিল তিউনিসিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন ক্লডিয়া। তার পরিবার ইতালির সিসিলি থেকে ব্রিটিশ প্রটেক্টরেট আমলে সেখানে অভিবাসী হয়েছিল। ১৯৫০–এর দশকে তিনি চলচ্চিত্রে প্রবেশ করেন এবং গড়ে তোলেন ছয় দশকেরও বেশি সময়জুড়ে বিস্তৃত এক অসাধারণ ক্যারিয়ার।
শতাধিক ছবিতে অভিনয় করা এই তারকা কাজ করেছেন লুচিনো ভিসকন্তি, ফেদেরিকো ফেলিনি, সার্জিও লিওন, মৌরো বোলোনিনি এবং ভার্নার হারজগের মতো বিশ্বখ্যাত নির্মাতাদের সঙ্গে।
ভিসকন্তির “ইল গাত্তোপার্দো” চলচ্চিত্রে (আলাঁ দেলোঁর সঙ্গে নৃত্যের দৃশ্যটি এখনও কালজয়ী) অ্যাঞ্জেলিকা চরিত্রে অভিনয় এবং ফেলিনির অস্কারজয়ী “এইট এন্ড হাফ’–এ উপস্থিতি তাকে ইউরোপীয় সিনেমার কিংবদন্তীদের কাতারে স্থান দিয়েছে।
তার অন্যান্য উল্লেখযোগ্য ছবির মধ্যে রয়েছে দ্য গার্ল উইথ দ্য স্যুটকেস, ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন দ্য ওয়েস্ট, ফিৎসকারালদো, লা পেল্লে, লা স্তোরিয়া এবং হলিউডে তাকে পরিচিত করে তোলা ‘দ্য পিঙ্ক প্যান্থার’।
চলচ্চিত্র ছাড়াও তিনি মঞ্চে কাজ করেছেন এবং তরুণ নির্মাতাদের পাশে থেকেছেন। মিডিয়ার অযথা আলোচনায় নিজেকে আড়াল করে রাখলেও শিল্প ও সামাজিক বিষয়ে সক্রিয় ছিলেন সবসময়।
পাঁচবারের “ডেভিড দি দোনাতেল্লো”, পাঁচবারের “নাস্ত্রো দ’আর্জেন্তো” পুরস্কার জয়ী কার্ডিনালে ভেনিস ও বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসব থেকে আজীবন সম্মাননাও পেয়েছেন।
সমালোচকরা বলছেন, ক্লডিয়াকে শুধু রূপ ও অভিনয়গুণের জন্য নয়, বরং শিল্প ও জীবনকে যে সততা, সচেতনতা ও মর্যাদার সঙ্গে তিনি ধারণ করেছিলেন- তার জন্যও যুগে যুগে স্মরণ করবে বিশ্ব চলচ্চিত্র। গেজেট এক্সপ্রেস









