জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ চলছে। বিকেল থেকে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত আহত হয়েছেন অর্ধ-শতাধিক শিক্ষার্থী।
বুধবার (১৭ জুলাই) রাত সোয়া ৮ টায় এ তথ্য নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রের প্রধান ডা. শামসুর রহমান।
শিক্ষার্থীরা জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশের গুলিতে অর্ধ-শতাধিক কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। এছাড়াও রাবার বুলেট ও টিয়ারশ্যালে নিক্ষেপে প্রায় ২০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে ১৫ জন সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। বাকিরা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে চিকিৎসা নিয়েছেন।
এর আগে, বিকেল সোয়া ৫টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার সংলগ্ন সড়কে পুলিশ ও কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।
আজ সকাল ১০টা থেকে কোটা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক, প্রান্তিক গেইট, শহীদ মিনার সংলগ্ন সড়কে প্রায় ৫ শতাধিক পুলিশ মোতায়েন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বেলা ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জরুরি সিন্ডিকেট সভা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও করে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নূরুল আলমসহ অন্যান্য সিন্ডিকেট সদস্যরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।
পরে উপাচার্যকে উদ্ধার করতে গিয়ে বিকেল সোয়া ৫টার দিকে শিক্ষার্থী ও পুলিশের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে পুলিশ আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে টিয়ারশেল, রাবার বুলেট, ছররা গুলি নিক্ষেপ শুরু করে। এতে আন্দোলনকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানবিক অনুষদ, পুরাতন প্রশাসনিক ভবন, ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি), নির্মাণাধীন লাইব্রেরি ভবনে আশ্রয় নেয়।
এতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৭০ জনের অধিক কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী আহতের খবর পাওয়া গেছে।
শিক্ষার্থীদের কোটা আন্দোলনকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে ২ শতাধিক বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।









