ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী, জুলাই আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছে সম্মিলিত নাগরিক সমাজ। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে সংবাদমাধ্যম, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন ব্যক্তি–প্রতিষ্ঠানের ওপর সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে জানানো হয়, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন শরীফ ওসমান হাদির ওপর নৃশংস সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনি গত ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে এই হত্যাকাণ্ডকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির জন্য ‘অশনিসংকেত’ বলে উল্লেখ করা হয়।
নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে বলা হয়, জুলাই যোদ্ধা হিসেবে পরিচিত শরীফ ওসমান হাদি ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে আপোষহীন ভূমিকা পালন করেছিলেন। তাঁর হত্যাকাণ্ড প্রমাণ করে, অভ্যুত্থানের এক বছর পার হলেও নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকার ব্যর্থ হয়েছে। একই সঙ্গে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভাজন ও সহিংসতার রাজনীতি আরও উসকে উঠেছে বলে মন্তব্য করা হয়।
বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় পরিকল্পিত সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলার শিকার হয়েছে প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, ছায়ানট সংস্কৃতি ভবন এবং নালন্দা বিদ্যালয়। হামলার সময় সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা অফিসে উপস্থিত থাকায় প্রাণ বাঁচাতে অনেককে ভবনের ছাদে আশ্রয় নিতে হয়। এ সময় নিউ এইজ সম্পাদক নূরুল কবীর ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে তাঁর ওপরও হামলার চেষ্টা করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে। নারী সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগও তুলে ধরা হয়।
এছাড়া ব্যক্তিগত সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টার ও ভারতীয় হাইকমিশনে হামলার চেষ্টা এবং ধানমন্ডি ৩২-এর ভবন ঘিরে সহিংসতার কথাও উল্লেখ করা হয়। এরই মধ্যে ঢাকায় উদীচীর কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে বলে জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ১৮ ডিসেম্বর রাতে ময়মনসিংহের ভালুকায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে দীপু চন্দ্র দাস নামের এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার পর মরদেহ পুড়িয়ে ফেলার ঘটনা ঘটে। পাশাপাশি বান্দরবান, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংস হামলার খবর পাওয়া গেছে।
নাগরিক সমাজের অভিযোগ, দেশ ও বিদেশের কিছু সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার এসব সহিংস ঘটনায় উসকানি দিয়েছে এবং হামলার লক্ষ্যবস্তুর ইঙ্গিত দিয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে এসব ঘটনা ঘটলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর ভূমিকা এবং অন্তর্বর্তী সরকারের দৃশ্যমান তৎপরতা দেখা যায়নি বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
বিবৃতিতে পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়। এর মধ্যে রয়েছে—শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের স্বচ্ছ তদন্ত ও বিচার, ১৮ ডিসেম্বর রাতজুড়ে সংঘটিত সব সন্ত্রাসী হামলার তদন্ত, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতার দায় নিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ এবং দেশ-বিদেশ থেকে সহিংসতায় উসকানিদাতাদের শাস্তির আওতায় আনা।
এছাড়া সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের ওপর হামলাকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর আঘাত হিসেবে দেখে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি বিভাজনের রাজনীতি পরিহার করে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে সহিংস প্রতিশোধ নয়, ন্যায়বিচারের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এই বিবৃতিতে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি, ব্রেইন, ক্ষুব্ধ নারী সমাজ, সম্প্রীতি যাত্রা, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক, নারীপক্ষ, এএলআরডি, নাগরিক কোয়ালিশনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা একাত্মতা প্রকাশ করেছেন।









