বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার সম্পদের সন্ধান পেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি)। বিশ্বের পাঁচটি দেশের সাতটি শহরে অনুসন্ধান চালিয়ে এ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন সিআইসির মহাপরিচালক আহসান হাবিব।
রোববার রাষ্ট্রীয় অতিথিভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে বিষয়টি অবহিত করেন এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান ও সিআইসি প্রধান আহসান হাবিব।
সিআইসি জানায়, জানুয়ারি ২০২৫ থেকে চলমান অনুসন্ধানে এখন পর্যন্ত ৩৪৬টি সম্পদের খোঁজ পাওয়া গেছে, যেগুলো বাংলাদেশ থেকে অর্থ পাচার করে বিদেশে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে গড়ে তোলা হয়েছে। এ ছাড়া নয়টি দেশে ৩৫২টি বিদেশি পাসপোর্ট পাওয়া গেছে, যেগুলো বাংলাদেশিদের অর্থের বিনিময়ে সংগ্রহ করা হয়েছে।
পাসপোর্ট পাওয়া দেশগুলো হলো:
অ্যান্টিগুয়া অ্যান্ড বারবুডা, অস্ট্রিয়া, ডমিনিকা, গ্রেনাডা, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, নর্থ মেসিডোনিয়া, মাল্টা, সেন্ট লুসিয়া এবং তুরস্ক।
সিআইসি প্রধান জানান, বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য পাওয়ার পর সংস্থাটির গোয়েন্দারা সরেজমিনে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছেন। তিনি বলেন, “আমরা যা পেয়েছি, তা হিমশৈলের চূড়ামাত্র। আরও অনেক তথ্য রয়েছে, যেগুলোর বিশ্লেষণে সময় লাগবে।”
তিনি আরও জানান, অর্থ পাচারে জড়িত চক্র সেন্ট্রাল ব্যাংকের ডাটাবেজে নিজেদের লোক বসিয়ে তথ্য মুছে ফেলেছিল। তবে বর্তমানে সিআইসি মুছে ফেলা তথ্য পুনরুদ্ধারের সক্ষমতা অর্জন করেছে।
দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার
প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “দেশের অর্থনীতিকে যারা লুটপাট করেছে, তারা রাষ্ট্রদ্রোহমূলক অপরাধ করেছে।” তিনি বলেন, “ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুন্দর দেশ গড়তে হলে এই লুটেরাদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।”
তিনি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), সিআইসি, সিআইডি ও অন্যান্য সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন এবং বলেন, “এই অনুসন্ধান আরও গভীরে এবং আরও বেশি দেশে বিস্তৃত করতে হবে।”
সরকারের পক্ষ থেকে সম্পদ ফিরিয়ে আনার সম্ভাব্য সব উদ্যোগে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।









