দুর্নীতির অভিযোগে বড় শাস্তি পেয়েছেন চীনের সাবেক ফুটবলার ও জাতীয় দলের সাবেক কোচ লি টাই। ঘুষ দেওয়া ও নেওয়ার অপরাধে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে তাকে।
চীনের ইতিহাসের সেরা ফুটবলারদের একজন লি। চলতি বছরের শুরুতে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে এভারটনের হয়ে খেলা তারকা ম্যাচ ফিক্সিং, ঘুষ নেওয়া এবং শীর্ষ পর্যায়ে কোচের চাকরি পাওয়ার জন্য ঘুষ দেওয়ার কথা স্বীকার করেন। এবার তার শাস্তি পেলেন।
লি এর শাস্তিকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের দুর্নীতিবিরোধী কঠোর অবস্থানের ফল হিসেবে দেখা হচ্ছে। চলতি সপ্তাহে চাইনিজ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (সিএফএ) তিন সদস্যকেও ঘুষের দায়ে কারাদণ্ড শাস্তি দেয়া হয়। পাশাপাশি বেশ কয়েকজন কোচ ও খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত চলছে।
২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত চীন জাতীয় দলের প্রধান কোচ ছিলেন ৪৭ বর্ষী লি। ১ কোটি ৬০ লাখের বেশি ডলার ঘুষ নেয়ার অভিযোগে গত মার্চে দোষী সাব্যস্ত হন। ২০১৫ সাল থেকে ২০২১ পর্যন্ত সময়ে এসব ঘটনা ঘটেছে। ২০১৫ সালের আগস্ট থেকে এক বছর চায়না ফরচুন ক্লাবে সহকারী কোচ ছিলেন লি।
চলতি বছরের শুরুতে চীনের সরকারি গণমাধ্যমে লি’র দুর্নীতি নিয়ে একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। সেখানে নিজের অপরাধের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন তিনি। বলেছেন, ‘আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। আমার উচিত ছিল সঠিক পথ অনুসরণ করা। কিছু বিষয় সেই সময়ে ফুটবলে প্রচলিত ছিল।’ ২০০২ বিশ্বকাপে খেলা মিডফিল্ডার লি চীনের হয়ে খেলেছেন ৯২ ম্যাচ।
প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ক্ষমতায় এসে নব্বই দশকের শেষ দিকে ঘটা ম্যাচ ফিক্সিং ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন। দুর্নীতিবিরোধী প্রচারাভিযান শুরু করে জিনপিংয়ের সরকার। চলতি বছরের শুরুতে সিএফএ’র সাবেক প্রধান চেন হুয়ানকে এক কোটি ১০ লাখ ডলার ঘুষ নেওয়ার অপরাধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি দুর্নীতির দায়ে ফুটবলের আরও বেশ কিছু শীর্ষ কর্মকর্তাকে আড়াই বছর থেকে ১৪ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দেয়৷
এছাড়া গত সেপ্টেম্বরে ৩৮ জন খেলোয়াড় ও পাঁচ জন ক্লাব কর্মকর্তাকে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করে সিএফএ। তদন্তে দেখা যায়, ১২০টি ম্যাচে ফিক্সিং করা হয়েছে, যেখানে জড়িত ছিল ৪১টি ক্লাব।









