চীন ও পাকিস্তানের সাথে আফগানিস্তানে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ সম্প্রসারিত করতে সম্মত হয়েছে তালেবান সরকার। নিষেধাজ্ঞায় বিধ্বস্ত দেশটিতে অবকাঠামো প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য বিলিয়ন ডলারের সম্ভাবনা রয়েছে।
রোববার ৭ মে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভির প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার ইসলামাবাদে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিন গ্যাং এবং পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারির সাথে তালেবানের শীর্ষ কূটনীতিক আমির খান মুত্তাকি সাক্ষাৎ করেন।
বৈঠকে তারা আফগানিস্তানের পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় একসাথে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন। এর মধ্যে তালেবান শাসিত দেশে ৬০ বিলিয়ন ডলারের চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর স্থাপনের বিষয়টিও প্রাধান্য পেয়েছে।
বৈঠকের পর পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘দুই পক্ষ আফগান জনগণের জন্য তাদের মানবিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা অব্যাহত রাখতে এবং আফগানিস্তানে সিপিইসি সম্প্রসারণের মাধ্যমে আফগানিস্তানে উন্নয়ন সহযোগিতা বাড়াতে সম্মত হয়েছে।’
প্রায় এক দশক আগে শুরু হওয়া প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ফ্ল্যাগশিপ বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের অধীনে নির্মিত আফগানিস্তানে প্রকল্পটি সম্প্রসারিত করার বিষয়ে চীনা ও পাকিস্তানি কর্মকর্তারা এর আগে আলোচনা করেছেন। অর্থ সংকটে থাকা তালেবান সরকার এই প্রকল্পে অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুত এবং অনেক প্রয়োজনীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ পাওয়ার সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে।
তালেবানের শীর্ষ কূটনীতিক আমির খান মুত্তাকি তার চীনা ও পাকিস্তানি সমকক্ষদের সাথে দেখা করতে ইসলামাবাদে গিয়েছিলেন এবং একটি চুক্তিতে সাক্ষর করেন বলে তার ডেপুটি মুখপাত্র হাফিজ জিয়া আহমদ ফোনে জানিয়েছেন।
তালেবানরা চীনের কাছে দেশটির সমৃদ্ধ সম্পদে বিনিয়োগ বাড়ানোর আশা পোষণ করেছে, যার আনুমানিক পরিমাণ ১ ট্রিলিয়ন ডলার। উত্তর আমু দরিয়া অববাহিকা থেকে তেল উত্তোলনের জন্য চায়না ন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের একটি সহযোগী সংস্থার সঙ্গে জানুয়ারিতে সরকার প্রথম চুক্তি স্বাক্ষর করে।
চীন ও পাকিস্তানের মন্ত্রীরা আফগানিস্তানের বিদেশি আর্থিক সম্পদগুলোকে মুক্ত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য তহবিল ব্যবহার করা হবে এই উদ্বেগের কারণে বিদেশে থাকা আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভের প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার ব্যবহার করা থেকে তালেবানকে অবরুদ্ধ করা হয়েছে।








