‘ইনকিলাব মঞ্চ’র মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলায় চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। এতে শুটার পলাতক ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনের নাম রয়েছে।
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর মিন্টো রোডের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান ডিএমপির ডিবি প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম।
তিনি বলেন, মিরপুরের সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও যুবলীগ নেতা তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পির নির্দেশে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তদন্তে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলেই চার্জশিট দেওয়া হয়েছে।
এখন পর্যন্ত কতজনকে এই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা ১৭ জনের নামে চার্জশিট দিয়েছি। এর মধ্যে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাঁচজন পলাতক রয়েছে। পলাতকরা হলেন- হাদিকে গুলি করা ফয়সাল করিম মাসুদ, মোটরসাইকেল চালক আলমগীর শেখ, তাদের পালাতে সহায়তা করা মানবপাচারকারী ফিলিপ স্নাল, হত্যার নির্দেশদাতা তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী ও ফয়সালের বোন জেসমিন।
অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদের কথিত ভিডিওবার্তা নিয়ে ডিবিপ্রধান বলেন, ভিডিওবার্তাটি সঠিক, তবে তার অবস্থান দুবাই নয়। আমরা তদন্তে পেয়েছি সে ভারত আছে। ভিডিওবার্তা দিতেই পারে, কিন্তু তার বিরুদ্ধে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
ভারতে পলাতক মূল আসামিদের প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে শফিকুল ইসলাম বলেন, চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। আদালত চার্জ গঠনের পর তাদের হস্তান্তরের কার্যক্রম শুরু হবে। এটা রাষ্ট্রীয় অন্য সংস্থা করবে। আমাদের (ডিবি) বললে আমরাও করবো।
জুলাই বিপ্লবী ওসমান হাদিকে গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার রাস্তায় প্রকাশ্যে গুলি করে মোটরসাইকেলে আসা ফয়সাল করিম মাসুদ। গত ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওসমান হাদি মারা যান।
গুলি করার পর শুটার ফয়সাল ও তাকে বহনকারী মোটরসাইকেলের চালক আলমগীর শেখ ভারতে পালিয়ে যায়।
হাদিকে গুলির ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় একটি মামলা করেন। পরে ২০ ডিসেম্বর ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্দিক আজাদ মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ (হত্যা) ধারা সংযোজনের নির্দেশ দেন।









