চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যার অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ। একই সঙ্গে আসামিদের অব্যাহতির আবেদন খারিজ করে দেন আদালত।
আজ (১২ জানুয়ারি) সোমবার রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল-১ এই আদেশ দেন। এর মাধ্যমে সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার প্রক্রিয়া শুরু হলো। প্রসিকিউশনের অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হকের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুতর।
তাদের বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে কারফিউ জারির মাধ্যমে মারণাস্ত্র ব্যবহারে উসকানি, প্ররোচনা ও ষড়যন্ত্র। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, তাদের ধারাবাহিক কর্মকাণ্ডের ফলে মিরপুর-১, ২, ১০ ও ১৩ নম্বর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আওয়ামী লীগের সশস্ত্র হামলায় বহু ছাত্র-জনতা নিহত হন। সে সময় নির্যাতন বন্ধে তারা কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি।
প্রসিকিউশন আরও জানায়, আন্দোলন দমনে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সালমান ও আনিসুল সরাসরি যুক্ত ছিলেন। এর অংশ হিসেবে ১৯ জুলাই তাদের মধ্যে একটি ফোনালাপ হয়, যেখানে আন্দোলনকারীদের ‘শেষ করে’ দেওয়ার কথা শোনা যায়। কারফিউ চলাকালে এই বক্তব্য হত্যাকাণ্ডে উসকানি হিসেবে কাজ করেছে বলে শুনানিতে আদালতকে জানায় প্রসিকিউশন। পাশাপাশি ইন্টারনেট বন্ধ করে গণহত্যার ঘটনা আড়াল করার বিষয়েও তারা আলোচনা করেছিলেন বলে অভিযোগ আনা হয়।
গত ২২ ডিসেম্বর শুনানির সময় ওই ফোনালাপের অডিও রেকর্ডসহ সব অভিযোগ ট্রাইব্যুনালের সামনে উপস্থাপন করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। একই সঙ্গে আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আবেদন জানান তিনি। অন্যদিকে, আসামিপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, জুলাই আন্দোলন দমনে শেখ হাসিনাকে পরামর্শ বা উসকানি দেওয়ার কোনো প্রমাণ রাষ্ট্রপক্ষ উপস্থাপন করতে পারেনি।
জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী গত ৬ জানুয়ারি সালমান ও আনিসুলের অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেন এবং শুনানিতে তাদের নির্দোষ দাবি করে অভিযোগ গঠন না করার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। শুনানিকালে প্রসিকিউশনের উপস্থাপিত ফোনালাপটি সালমান ও আনিসুলের নয় বলেও দাবি করেন আসামিপক্ষ। এজন্য বিদেশি বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে ভয়েস রেকর্ড পরীক্ষার আবেদন করা হলে ট্রাইব্যুনাল গত ৪ জানুয়ারি সেই আবেদন খারিজ করে দেন।
এর আগে গত ৪ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ মামলাটির অভিযোগ আমলে নেন এবং একই দিন প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করে।









