গুণীশিল্পীদের স্মরণ ও উদযাপনে চ্যানেল আই বরাবরই অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। সৈয়দ আব্দুল হাদীর ৮৫তম জন্মবার্ষিকীতেও এই চ্যানেলটি তাকে যথাযথ সম্মান ও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করতে যাচ্ছে।
১ জুলাই কিংবদন্তী কণ্ঠশিল্পী সৈয়দ আব্দুল হাদীর ৮৫তম জন্মবার্ষিকী। ১৯৪০ সালের ১ জুলাই জন্মগ্রহণ করা এই সংগীতজ্ঞ ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলা সংগীতজগতে নিজের অবদান রেখে চলেছেন। গানে গানে যিনি বাঙালির হৃদয়ে গেঁথে আছেন, সেই শিল্পীর জন্মদিন উপলক্ষে চ্যানেল আই আয়োজন করেছে বিশেষ অনুষ্ঠানমালার।
জন্মদিন উপলক্ষে চ্যানেল আইয়ের নিয়মিত আয়োজন “গান দিয়ে শুরু”–এর বিশেষ পর্বটি আজ সরাসরি সম্প্রচারিত হবে সকাল ৭টার সংবাদের পরপর।
এই আয়োজনে সৈয়দ আব্দুল হাদীর গাওয়া কালজয়ী জনপ্রিয় গানগুলো নতুনভাবে পরিবেশন করবেন এ প্রজন্মের সংগীতশিল্পী মহারাজা, আলাউদ্দিন এবং শানু। সেই সঙ্গে প্রচারিত হবে শিল্পীর জীবন ও কর্মভিত্তিক একটি প্রামাণ্য তথ্যচিত্র এবং বিভিন্ন গুণগ্রাহীদের পক্ষ থেকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা বার্তা।
সৈয়দ আব্দুল হাদীর জন্ম ব্রিটিশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলায়। দেশভাগের পর তার পরিবার বাংলাদেশে চলে আসে। ছোটবেলা থেকেই সংগীতের প্রতি ঝোঁক থাকলেও, পেশাগত সংগীতজীবনের শুরু ষাটের দশকে। রেডিও ও চলচ্চিত্রের গানে কণ্ঠ দিয়ে তিনি অল্প সময়েই শ্রোতাদের মন জয় করেন।
তাঁর কণ্ঠে গাওয়া ‘এই মন তোমাকে দিলাম’, ‘চেনা চেনা লাগে আজ’, ‘একবার যেতে দে না আমার ছোট্ট সোনার গাঁয়ে’, কিংবা ‘আছেন আমার মোক্তার, আছেন আমার বারিস্টার’—এমন অসংখ্য গান আজও বাঙালির হৃদয়ে বেঁচে আছে। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, একুশে পদকসহ বহু সম্মাননা পেয়েছেন তিনি।

নতুন গান গাওয়া প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন বাংলা সংগীতের জীবন্ত কিংবদন্তী সৈয়দ আবদুল হাদী। কিন্তু চ্যানেল আই কর্তৃপক্ষ গেল দুই বছরেরও অধিক সময় ধরে চেষ্টা করছিলেন সৈয়দ আবদুল হাদীকে দিয়ে নতুন গান করানোর জন্য। গেল ঈদুল ফিতরে সৈয়দ আবদুল হাদী দর্শক শ্রোতাদের জন্য নতুন চারটি গানে কণ্ঠ দেন।
চ্যানেল আইয়ে প্রচারিত ‘জীবনের গান’ অনুষ্ঠানটিতে দীর্ঘদিন পর দর্শক শ্রোতারা গাইতে দেখেন আব্দুল হাদীকে। যে অনুষ্ঠানটির উপস্থাপনায় ছিলেন জীবন্ত কিংবদন্তী গীতিকার মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান। সবগুলো গানের সংগীতায়োজন করেন বিনোদ রায়। আর গানগুলো ভিডিও আকারে চ্যানেল আইতে প্রচারের জন্য ভিডিও নির্দেশনায় ছিলেন আজম বাবু।
নতুন এই চারটি গান নিয়ে সৈয়দ আবদুল হাদী তখন বলেছিলেন,“আমিতো আসলে সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলেছিলাম যে আর নতুন গান করব না। কিন্তু সাগর, জিয়া আর বাবু আমাকে অনেকটাই জোর করেই গাওয়ালো। সত্যি বলতে কী তাদের অবশ্য আমার প্রতি ভীষণ আন্তরিকতার কারণেই আমি তাদের না করতে পারিনি। ওরা আমাকে এত ভালোবাসে, শ্রদ্ধা করে কেমন করেই বা না করি। তাছাড়া মোহাম্মদ রফিকউজ্জামানের সঙ্গে আমার ষাট বছরের বন্ধুত্ব। কিছুদিন আগেই তার পাঠানো একটি গান আমার মনে লাগল। যেহেতু আমরা সমবয়সীও বটে। জীবনের ব্যাপারে আমাদের আবেগ অনুভূতি বলা যায় একই রকম। সে কারণে ইচ্ছে হলো গানটা গাই।”









