মহান বিজয় দিবসের সকালে চ্যানেল আই চেতনা চত্বরে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণ করে বিজয় উদযাপন করা হয়েছে। এবারের আয়োজনটির নাম ছিল ‘হৃদয়ে লাল সবুজ বিজয়ের ৫৪ বছর’। সকাল ১১টায় শুরু হয় বিজয় দিবসের এই আয়োজন।
যেখানে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, বিজয় দিবস এবং নয় মাসব্যাপী রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে প্রাণ হারানো সকল শহীদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করা হয়।
আয়োজনের শুরুতে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে অনুষ্ঠানটির উদ্বোধন করেন প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এবং ইমপ্রেস গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক বীর মুক্তিযোদ্ধা মুকিত মজুমদার বাবু, যেখানে আরও ছিল গান, নৃত্য, ছবি আঁকা, কবিতা আবৃত্তি।
ইনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নিবেদিত ‘হৃদয়ে লাল সবুজ বিজয়ের ৫৪ বছর’ আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মুকিত মজুমদার বাবু ছাড়াও ইনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডাক্তার আশীষ কুমার চক্রবর্তী, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন, অভিনেতা ও আবৃত্তিশিল্পী জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, সংগীতশিল্পী খুরশিদ আলম এবং বীর মুক্তিযোদ্ধারা।
যেখানে সারাদেশ থেকে আগত অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্য থেকে ১০ জনের প্রতিজনকে সম্মাননা স্মারক ও পঞ্চাশ হাজার টাকার চেক প্রদান করা হয়।
মুকিত মজুমদার বাবু বলেন, ৭১-এ মুক্তিযুদ্ধ ছিল আমাদের বাঁচার জন্য, অধিকারের জন্য, মাটি ও দেশের জন্য। এখন দেশকে ভালো রাখার জন্য আমাদের চেষ্টা যেন সর্বাত্মক থাকে। ৭১-এ আমরা একতাবদ্ধ ছিলাম, সেভাবে সবসময় আমাদের একতাবদ্ধ থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের স্বাধীনতা ও বিজয়ের জন্য যারা জীবন ও অনেককিছু ত্যাগ করেছেন সবসময় তাদের মনে রাখতে হবে, নইলে রক্তের সাথে বেঈমানী করা হবে। আমরা বিজয়ের দিনে আবারও শপথ নিই, আমাদের দেশ এবং স্বাধীনতা যেন সবকিছুর ঊর্ধ্বে থাকে।
আগত মুক্তিযোদ্ধারা বলেন, সাম্য, সামাজিক ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা, নিজেদের অধিকার রক্ষার জন্য আমরা ৭১-এ জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছিলাম। বিজয়ের এই ৫৪ বছরে যারাই রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসেছেন তারা জনগণকে দেয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারেনি। আমরা চাই, স্বাধীন দেশের প্রত্যেক মানুষ স্বাধীনভাবে সুরক্ষিত থাকুক। আমরা মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে ধারণ করে এই প্রজন্মকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানাই।
যে ১০ জন মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মাননা প্রদান করা হয় তারা হলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল কাদের (বরগুনা সদর), বীর মুক্তিযোদ্ধা বজলুর রহমান (সাঘাটা, গাইবান্ধা), বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল করিম (জামালপুর সদর), বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম (ভুরুঙ্গামারি, কুড়িগ্রাম), বীর মুক্তিযোদ্ধা আল আমীন (নওগাঁ সদর), বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুব হোসেন (শরীয়তপুর সদর), বীর মুক্তিযোদ্ধা কটা শেখ (নকলা, শেরপুর), বীর মুক্তিযোদ্ধা চিত্তরঞ্জন দাশ (রাঙামাটি সদর), বীর মুক্তিযোদ্ধা শারফুদ্দিন আহমেদ নুরু (মানিকগঞ্জ সদর)।
সম্মাননা গ্রহণ শেষে মুক্তিযোদ্ধারা আবেগ আপ্লুত হয়ে জানান, গণমাধ্যমের জায়গা থেকে চ্যানেল আই যেভাবে প্রতি বিজয় দিবসে মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণ করে, সম্মান জানায় এটা সত্যিই আমাদের আপ্লুত করে।
তারা জানান, বাংলাদেশের পক্ষে থেকে চ্যানেল আই যে সবসময় হৃদয়ে বাংলাদেশকে ধারণ করা সেটা চ্যানেল আই কাজে প্রমাণ দেয়। উপস্থিত সকল মুক্তিযোদ্ধরা চ্যানেল আইয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।









