প্লাস্টিক দূষণ কার্যকরভাবে মোকাবেলা করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে একমতে পৌঁছাতে চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। এই বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের জন্য একটি ব্যাপক এবং প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ার পথ তৈরী করতে বিতর্কিত বিষয়গুলোর উপর আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে একমত হওয়ার ক্ষেত্রগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া স্টেকহোল্ডারদের জন্য অপরিহার্য।
গত ২৩ থেকে ২৪ এপ্রিল কানাডার রাজধানী অটোয়াতে অনুষ্ঠিত গ্লোবাল প্লাস্টিক ট্রিটি আন্তঃসরকারি আলোচনা কমিটি (আইএনসি-৪) সম্মেলনে অংশগ্রহণ শেষে রোববার ফলাফল নিয়ে আলোচনা করতে এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন-এসডো তাদের প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির সিনিয়র পলিসি এবং টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার ড. শাহরিয়ার হোসেন। এসডোর পক্ষ থেকে আইএনসি-৪ এ আরও অংশ নেন নির্বাহী পরিচালক সিদ্দীকা সুলতানা।
ড. শাহরিয়ার হোসেন বলেন, আইএনসি-৪-এ প্লাস্টিক দূষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে বাধ্যতামূলক চুক্তি গঠনের জন্য দৃঢ় আহ্বান জানিয়েছেন বৈশ্বিক প্রতিনিধিরা। আইএনসি-৪ কিছু নির্দিষ্ট কাজ করতে পেরেছে। যার মধ্যে ক্ষতিকর পণ্য এবং রাসায়নিকের একটি তালিকা তৈরি করা এবং রিসাইক্লিং ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য মানসম্মত ডিজাইনের প্রয়োজনীয়তা প্রতিষ্ঠা করা ছিল উল্লেখযোগ্য। কিন্তু, অনেক দেশের অনুরোধ সত্ত্বেও, আলোচনায় প্রাইমারি প্লাস্টিক উৎপাদন কমানোর প্রয়োজনীয়তার দিকে নজর দেওয়া হয়নি।
ড. হোসেন বলেন, আলোচনায় প্রায় ২০০ জনের মতো জীবাশ্ম জ্বালানী প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন, যাদের আলোচনা অনেকটাই প্রভাবিত হয়েছে। আইএনসি-৩ থেকে আইএনসি-৪-এ এই ইন্ডাস্ট্রি প্রতিনিধির সংখ্যা ৩৭% বেড়েছে।
তিনি আরো জানান, আইএনসি-৪-এ বিশেষজ্ঞদের দুটি অ্যাড-হক গ্রুপ তৈরী করা হয়েছিল। একটি গ্রুপ প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য আর্থিক প্রক্রিয়া বিশ্লেষণ করতে। অন্যটি প্লাস্টিক পণ্যগুলোর রিসাইকেল এবং পুনর্ব্যবহারযোগ্যতা পরীক্ষা করে স্থায়িত্ব বাড়ানোর বিষয় পর্যবেক্ষণের জন্য। এই দলগুলো আইএনসি-৫-এর আগে নিজেরা আলোচনায় বসবে। একটি ওপেন-এন্ডেড লিগাল ড্রাফটিং গ্ৰুপ এই অ্যাড-হক গ্রুপ তৈরি ড্রাফট ডকুমেন্টের স্পষ্টতা এবং প্রয়োগযোগ্যতা নিশ্চিত করবে।
এসডোর নির্বাহী পরিচালক সিদ্দীকা সুলতানা বলেন, সাম্প্রতিক বৈঠকে প্রাথমিক প্লাস্টিক পলিমার উৎপাদনের বিষয়টি বাদ দিয়ে আর্থিক প্রক্রিয়া এবং পণ্য-সম্পর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে, যা অনেকের মতে চুক্তির মূল উদ্দেশ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। পেরু এবং রুয়ান্ডা প্রস্তাব করেছে ২০৪০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী প্লাস্টিক পলিমার ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো উচিত। কিন্তু কিছু দেশ শুধুমাত্র বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করেছে, যা চুক্তির উদ্দেশ্যকে সীমাবদ্ধ করেছে।
তিনি বলেন, চুক্তিতে উল্লেখিত বিষয়গুলো এখনো অপূর্ণ। বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা শিল্প কারখানার নিয়ন্ত্রিত এক্সটেন্ডেড প্রোডিউসার রেসপনসিবিলিটি, প্লাস্টিক ক্রেডিট, প্লাস্টিকের অতিরিক্ত উৎপাদন এবং স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। আলোচনায় জীবাশ্ম জ্বালানী এবং রাসায়নিক শিল্পের লবিং প্রভাবিত করেছে। আদিবাসীরা সম্পূর্ণ সার্কুলার সমাধান এবং সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছে।
সিদ্দীকা সুলতানা বলেন, আইএনসি-৪-এর সময়, প্রতিনিধিরা পুনর্ব্যবহারযোগ্য ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য উন্নত মানের ডিজাইনের প্রয়োজনীয়তা এবং সংশ্লিষ্ট পণ্য ও রাসায়নিক শনাক্তকরণে প্রশংসনীয় অগ্রগতি করেছেন। কিন্তু প্রাথমিক প্লাস্টিক পলিমার উৎপাদন হ্রাস নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা বিভিন্ন দেশ থেকে তোলা হলেও, তা আলোচনা থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে অনুপস্থিত ছিল। তিনি সাংবাদিকদের জানান, এই বিষয়টি বাদ দেওয়া সমালোচনার সৃষ্টি করেছে এবং পরিবেশগত সংকটের মূল কারণগুলো মোকাবেলায় নেতিবাচক দিক হিসাবে দেখা হচ্ছে।
চলতি বছরের নভেম্বরে কোরিয়ার বুসানে আইএনসি-৫ অনুষ্ঠিত হবে।









