মহান বিজয়ের মাস ব্যাপক আকারে উদযাপন করেছে সরকার। এক্ষেত্রে শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিজয় কনসার্টসহ নানা বর্ণাঢ্য আয়োজন ছিল চোখে পড়ার মতো। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তর বিজয় মাসে নানা ধরনের কর্মসূচি পালন করেছে।
এরমধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের দ্বিতীয় ডিসেম্বর মাসে বিজয় উদযাপন উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি এবং প্রধান উপদেষ্টার বাণী প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় প্রকাশসহ সংবাদপত্রসমূহে বিশেষ নিবন্ধ, সাহিত্য সাময়িকী ও ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হয়। ১৬ ডিসেম্বর সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবন এবং বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনসমূহে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।
অন্যদিকে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি ভবন ও স্থাপনায় আলোকসজ্জা করা হয়। ১৬ ডিসেম্বর সুর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ঢাকাসহ দেশের সব জেলা ও উপজেলায় একত্রিশবার তোপধ্বনি করা হয়েছে। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এছাড়া, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টার নেতৃত্বে বীরশ্রেষ্ঠ পরিবারের সদস্যবৃন্দ, যুদ্ধাহত বীর মু্ক্তিযোদ্ধা, বীর মুক্তিযোদ্ধারা ও বিদেশি কূটনীতিকগণ পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে অনুরূপ কর্মসূচি পালিত হয়।
১৬ ডিসেম্বর সকাল ৯টায় বিভাগ, জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের সমাবেশ, জাতীয় পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সংগীত পরিবেশন, কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লে প্রদর্শনসহ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

দেশের সকল জেলা এবং উপজেলায় ৩ দিনব্যাপী আড়ম্বরপূর্ণ বিজয়মেলা আয়োজন এবং শিশুদের অংশগ্রহণে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক রচনা, আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসসমূহে বিদেশি অধ্যাপক, প্রতিথযশা নাগরিক, স্থানীয় প্রশাসন, গণ্যমাণ্য ব্যক্তিবর্গ, শিল্পী-সাহিত্যিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিক, গণমাধ্যম ব্যক্তিবর্গ ও বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
চট্টগ্রাম, খুলনা, মংলা ও পায়রা বন্দর এবং ঢাকার সদরঘাট, নারায়ণগঞ্জ ও বরিশালসহ বিআইডব্লিউটিএ ঘাটে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বাংলাদেশ কোস্টগার্ড একক বা যৌথভাবে এবং চাঁদপুর ও মুন্সীগঞ্জ লঞ্চঘাটে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের জাহাজসমূহ ঐদিন সকাল ৯টা হতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়।
দিবসটি উপলক্ষ্যে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সুবিধাজনক সময়ে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের অংশগ্রহণে ক্রীড়া অনুষ্ঠান- ফুটবল ম্যাচ, টি-টুয়েন্টি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট, কাবাডি ও হা-ডু-ডু খেলাধুলার আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশে টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারসহ বিভিন্ন বেসরকারি বেতার ও টিভি চ্যানেলে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসভিত্তিক অনুষ্ঠানমালা প্রচার করা হয়েছে।
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় ১৬ ডিসেম্বর দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে পরিবেশিত হয় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গান। এ প্রজন্মের শিল্পীদের পরিবেশনায় একাত্তরের কালজয়ী সব গান শোনেন সাধারণ মানুষ। এছাড়া শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দু’দিনব্যাপী ‘বিজয় উৎসব’ ও ‘বিজয় দিবস কনসার্ট’ আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সুর ও সংগীতের মেলবন্ধনে অনুষ্ঠিত হয় ‘৭১ এর গান’।

এছাড়া ঢাকাসহ দেশের সব জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সিনেমা হলসমূহে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য বিনা টিকিটে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচিত্র প্রদর্শনী এবং গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের উদ্যোগে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মিলনায়তন বা উন্মুক্ত স্থানে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। জাদুঘর ও বিনোদনমূলক স্থান শিশুদের জন্য সকাল-সন্ধ্যা উন্মুক্ত রাখা এবং বিনা টিকিটে প্রদর্শনের ব্যবস্থা এবং দেশের সকল পর্যটন কেন্দ্রে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
দেশের সকল হাসপাতাল, জেলখানা, বৃদ্ধাশ্রম এতিমখানা/পথশিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র, প্রতিবন্ধী কল্যাণ কেন্দ্র, ডে-কেয়ার ও শিশু বিকাশ কেন্দ্র এবং শিশু পরিবার ও ভবঘুরে প্রতিষ্ঠানসমূহে প্রীতিভোজের আয়োজন করে। ঢাকা এবং দেশের বিভিন্ন শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপসমূহ জাতীয় পতাকাসহ বিভিন্ন ব্যানার, ফেস্টুন ও রঙিন নিশান দ্বারা সজ্জিত করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ডাক অধিদপ্তর মহান বিজয় দিবস ২০২৫ উপলক্ষ্যে স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করে।
একই সঙ্গে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত, মুক্তিযোদ্ধা ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের সুস্বাস্থ্য এবং জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও দেশের উন্নয়ন অগ্রগতি কামনা করে সকল মসজিদ, মন্দির, গীর্জা, প্যাগোডা ও অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ মোনাজাত বা প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।
এবারের বিজয় দিবসের অন্যতম আকর্ষণ ছিল অবিস্মরণীয় এয়ার শো। বিজয়ের ৫৪তম বছরে, ৫৪ জন প্যারাট্রুপার ৫৪টি জাতীয় পতাকা হাতে বিমান থেকে অবতরণ করে গড়েন বিশ্ব রেকর্ড। যা এর আগে কখনও বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হয়নি।









