গতবছর টেস্ট থেকে অবসর নিয়েছিলেন ইংল্যান্ডের নারী ক্রিকেটার ক্যাথেরিন সিভার ব্রান্ট। ফেব্রুয়ারিতে জানান, সাউথ আফ্রিকায় টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ হবে জাতীয় দলের সঙ্গে শেষ সম্পৃক্ততা। সেটাই হল, সবধরনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলে দিলেন তিন বিশ্বকাপজয়ী ৩৭ বর্ষী ইংলিশ কিংবদন্তি।
২০০৪ সালে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শুরু ক্যাথেরিনের। নারীদের টেস্টে ইংল্যান্ডের জার্সি পরেছিলেন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। ১৯ বছরের ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচটি খেলেছেন গত ফেব্রুয়ারিতে, কেপটাউনে মেয়েদের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে।
তিন ফরম্যাট মিলিয়ে ইংল্যান্ড জাতীয় দলের হয়ে ২৬৭ ম্যাচ খেলেছেন এ বোলিং-অলরাউন্ডার। উইকেট নিয়েছেন সবমিলিয়ে ৩৩৫টি। রান করেছেন ১,৮৬৪। ক্যারিয়ারে ১৪ টেস্টে নিয়েছেন ৫১ উইকেট। ১৮ ইনিংসে ব্যাট হাতে করেছেন ১৮৪ রান।
১৪১ ওয়ানডেতে শিকার করেছেন ১৭০ উইকেট। ৮২ ইনিংস ব্যাট করে রান তুলেছেন ১,০৯০। টি-টুয়েন্টিতে খেলেছেন ১১২ ম্যাচ। উইকেট ১১৪টি, ৬৭ ইনিংসে করেছেন ৫৯০ রান।
সাফল্যময় দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনটি বিশ্বকাপ শিরোপা স্পর্শ করেছেন এ কিংবদন্তি। ২০০৯ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপ ও টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ, এবং ২০১৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ জিতেছেন। এরমধ্যে ২০০৯ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে লর্ডসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হয়েছিলেন ম্যাচসেরা।
সেই ফাইনালে ৪ ওভার বল করে ৬ রান খরচায় নিয়েছিলেন ৩ উইকেট। জিতেছেন চারটি অ্যাশেজ সিরিজও। তিনবার ইংল্যান্ডের বর্ষসেরা নারী ক্রিকেটার নির্বাচিত হয়েছেন ক্যাথেরিন- ২০০৬, ২০১০ ও ২০১২-১৩ বর্ষে।
অবসর ঘোষণার সময় ক্যাথেরিন বললেন, ‘১৯ বছর পরে আমার আন্তর্জাতিক যাত্রার শেষ। ভেবেছিলাম কখনই এই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারব না। কিন্তু পেরেছি এবং আমার জীবনে এটি সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত ছিল।’
‘যা করেছি তা করার জন্য আমার কোনো স্বপ্ন বা আকাঙ্ক্ষা ছিল না। কেবল আমার পরিবারকে আমার জন্য গর্বিত করতে চেয়েছিলাম। এবং, যা অর্জন করেছি তা এর চেয়েও বেশি।’
‘ক্রিকেটের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। ক্রিকেট আমাকে একটি উদ্দেশ্য দিয়েছে। আত্মীয়তার অনুভূতি, নিরাপত্তা, অনেক সোনালী স্মৃতি এবং সেরা বন্ধু দিয়েছে ক্রিকেট, যা সারাজীবন থাকবে। ক্রিকেট থেকে আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি আমি নাটকে(সঙ্গিনী) পেয়েছি।’
‘দীর্ঘ সময় ধরে ইংল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করা আমার জন্য বিশাল সম্মানের বিষয়। ক্যারিয়ারকে বিশেষ করে তোলার জন্য অতীত এবং বর্তমান ইংল্যান্ড ক্রিকেট পরিবারের সবাইকে কৃতজ্ঞতা জানাই। ভক্তদেরও বলতে চাই, আপনারা দুর্দান্ত। আপনাদের ছাড়া আমরা কিছুই অর্জন করতে পারতাম না। সে সঙ্গে আমার পরিবারকেও ধন্যবাদ জানাতে চাই। তাদের সমর্থন ছাড়া আমি এ যাত্রা সম্পন্ন করতে পারতাম না।’








