ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী যাত্রীবাহী বাসে ডাকাতির ঘটনাযর তিনদিন পর টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে।
আজ শুক্রবার ২১ ফেব্রুয়ারি মামলাটি রেকর্ডভুক্ত করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোশাররফ হোসেন। মামলায় ডাকাতি ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ এনে অজ্ঞাত ৮ থেকে ৯ জনকে আসামি করে মামলাটি দায়ের করেছেন বাসযাত্রী নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার ওমর আলী।
বাসযাত্রীরা জানান, সোমবার রাতে ঢাকা থেকে ইউনিক রোড রয়েলস পরিবহনের একটি বাস ঢাকার গাবতলী থেকে ছেড়ে আসে। পথিমধ্যে চন্দ্রা এলাকায় বাসটিতে আরও কয়েকজন যাত্রী উঠেন। পরে বাসটি টাঙ্গাইলের সীমানায় পৌঁছালে নতুন উঠা যাত্রীসহ আরও কয়েকজন অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে বাসটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। পরে ডাকাতরা বাসটিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টা চক্কর দিয়ে যাত্রীদের নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান মালামাল লুট করে মির্জাপুর এলাকায় নেমে যান। এসময় এক নারী যাত্রীর শ্লীলতাহানি ও এক নারী যাত্রীকে বাসের পিছনের সিটে নিয়ে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ উঠে। এদিকে মামলার এজাহারে শ্লীলতাহানির কথা উল্লেখ থাকলেও ধর্ষণের কথা উল্লেখ করা হয়নি।
এজহারে বলা হয়, গত সোমবার বেলা ১১টা ২৫ মিনিটের দিকে ঢাকার গাবতলী বাসস্ট্যান্ড থেকে নাটোরের বড়াইগ্রাম যাওয়ার উদ্দেশ্যে রাজশাহীগামী ইউনিক রোড রয়েলস পরিবহনের বাসে টিকিট কেটে বাসে উঠি, যার নম্বর ময়মনসিংহ-ব-১১-০০৬১। বাসটি রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাজশাহী যাওয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। ছাড়ার সময় বাসটিতে ৩০ থেকে ৩৫ জন যাত্রী ছিল।
রাত ১টার দিকে বাসটি গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানাধীন চন্দ্রা বাইপাসে এসে চা পানের বিরতির দেয়। এ সময় চন্দ্রা বাইপাস থেকে আরও ৩ থেকে ৪ জন নতুন যাত্রী নিয়ে রাজশাহীর উদ্দেশ্যে রওনা করে। রাত দেড়টার দিকে গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানাধীন হাইটেক সিটি পার্ক সংলগ্ন খাড়াজোড়া ফ্লাইওভার ব্রিজ অতিক্রম করার ৫ থেকে ৬ মিনিট পর হঠাৎ বাসে ৮/৯ জন ডাকাত একসঙ্গে দাঁড়িয়ে যায় এবং ধারালো চাকু ও চাপাতি দিয়ে প্রাণে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে সবাইকে চুপ থাকতে বলে। এর মধ্যে তিনজন বাসটির ড্রাইভারের গলায় ধারালো চাকু ধরে নিয়ন্ত্রণ নেয়।
এক পর্যায়ে তারা ধারালো চাকু ও চাপাতি দিয়া ভয়ভীতি প্রদর্শন করে গাড়িতে থাকা সব যাত্রীর কাছ থেকে টাকা, মোবাইল ফোন, স্বর্ণালংকার নিতে থাকে। এ সময় ২ থেকে ৩ জন ডাকাত গাড়িতে থাকা অজ্ঞাতনামা নারী যাত্রীর স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে শ্লীলতাহানি করে। পরে ডাকাতরা বাসটি দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা গাজীপুরের বিভিন্ন স্থান ঘুরে নেমে যায়।
মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, চলন্ত বাসে ডাকাতি ও শ্লীলতাহানির ঘটনায় এক যাত্রী মামলা করেছেন। মামলায় অজ্ঞাত ৮ থেকে ৯ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।









