কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি আব্দুল্লাহ আল মামুন, আবেগ ডিবি প্রধান হারুনুর রশীদ ও কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আফজাল হোসেনসহ ১৬০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) বাজিতপুর পৌরসভার রাবারকান্দি এলাকার লালু মিয়ার ছেলে লোকমান মিয়া (২৫) বাদি হয়ে কিশোরগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল আদালত-৫ এ মামলাটি দায়ের করেন। তিনি বাজিতপুর কলেজ শাখা ছাত্র দলের যুগ্ম আহ্বায়ক।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে চলাকালে ১নং আসামি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৪ জুলাই সাংবাদিক সম্মেলনে বাংলাদেশের ছাত্র সমাজকে রাজাকার বলে উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। ২ নং আসামি সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ছাত্রলীগ, যুবলীগ দিয়ে সারা দেশের ছাত্র সমাজকে পিটিয়ে সোজা করবেন মর্মে উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। ১ ও ২ নং আসামির এই বক্তব্যের পর সারা দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি হয় এবং এরই ধারাবাহিকতায় বাজিতপুর উপজেলাতেও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলতে থাকে।
এ ছাত্র আন্দোলনকে দমন করতে ১ থেকে ৫ নং আসামির নির্দেশনায় সারা বাংলাদেশে ছাত্র জনতার ওপর অবাধে গুলি চলে। এরই প্রেক্ষাপটে গত ৪ আগস্ট ১ থেকে ৫ নং আসামির সাথে ৬ নং আসামি কিশোরগঞ্জ-৫ আসেনর সাবেক এমপি আফজাল হোসেনের নির্দেশনায় বাজিতপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ছাত্র জনতার ওপর ৭ থেকে ১৭, ১৯, ২০, ২১, ২৮, ৩০, ৪২ নং আসামিগণ অস্ত্র হাতে বাজিতপুর বাজার থেকে গুলি করতে করতে বাজিতপুর আদালত সংলগ্ন বটতলা মোড়ে দিকে যায়। সেখানে ১৩, ১৪, ১৫, ১৬, ১৭ নং আসামি ব্যাপকভাবে গুলি বর্ষণ করে এবং তাদের গুলিতে স্বাক্ষীগণ গুলিবিদ্ধ হন।
এর মধ্যে আলী আকবরের গুলিতে ২ নং স্বাক্ষী রিফাক গুরুতর আহত হয়ে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। অন্যান্য স্বাক্ষীগণও প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। তাছাড়াও বাজিতপুর উপজেলার আরও ৫০-৬০ জন ছাত্র-জনতা গুরুতর আহত হন। অন্যান্য আসামিগণের হাতে থাকা রামদা, চুরি, লাঠি, বল্লম, ইট ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়া ছাত্র জনতা ও বিএনপির সমর্থিত মিছিলে মারপিটসহ বিভিন্ন ভাবে লুটপাট করে। আসামিগণ ককটেল বিস্ফোরণ করে জনমনে আতংক সৃষ্টি করে।
মামলার বাদি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবুবাক্কার সিদ্দিক মিলন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মামলাটি আদালত গ্রহণ করে বাজিতপুর থানাকে এফআইয়ের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।









