হাসিনা সরকারের পতনে কার্টুন যে শক্তিশালী ভূমিকা রেখেছিল, তা গত এক মাসে প্রমাণিত। অনলাইন-অফলাইনের সেসব কার্টুন নিয়ে এবার পান্থপথের দৃক গ্যালারিতে শুরু হয়েছে ‘কার্টুনে বিদ্রোহ’ নামে প্রদর্শনী।
প্রথিতযশা শিল্পীরা তো এঁকেছেনই, প্রাণখুলে তাতে যোগ দিয়েছেন নবীনরাও। কেউ প্রকাশ করেছেন ব্যক্তিগত সোশ্যাল মিডিয়ায়, কেউ এঁকেছেন সংবাদমাধ্যমের পাতায়। কেউ নামে এঁকেছেন, কেউ বেনামে এঁকেছেন। অসংখ্য মানুষের শেয়ারে কার্টুনগুলো ছড়িয়ে গেছে অন্তর্জালে। এসব কার্টুনই দেখা গেল দৃকের এই প্রদর্শনীতে।
শুক্রবার বিকেলে ‘কার্টুনে বিদ্রোহ’ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক উমামা ফাতেমা।
স্বাগত বক্তব্যে আলোকচিত্রী শহীদুল আলম বলেন, ‘কার্টুনিস্টরা যেভাবে প্রতিবাদ করে, ভুল বুঝিয়ে দেয় সেটা যতটা গুরুত্বপূর্ণ, এর সঙ্গে আরেকটি জিনিস গুরুত্বপূর্ণ সেটা হলো, যাদেরকে প্রশ্ন করে তাঁরা কীভাবে বিষয়টি নেয়। এই জায়গায় আমি মনে করি, আমাদের বড় একটা পরিবর্তনের আশা রাখি। সারা পৃথিবীতে অনেক কিংবদন্তীতুল্য নেতা ছিলেন। তাঁদেরও ভুল হয়। কার্টুনিস্টরা যখন তাদের ভুল ধরিয়ে দেয়, আর তাঁরাও ভুল শোধরাতে পারে সেই সম্পর্কটার একটা অর্থ থাকে। কার্টুনিস্টরা কার্টুন আঁকছে, প্রতিবাদ করছে। শুধু এটা করলেই হবে না। যাদের উদ্দেশ্য করে করা, তাঁদের যেন চোখে পড়ে একটা জবাবদিহি তৈরি হয় সেই জায়গাটা যেন থাকে।’
অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার আগেই দর্শকে পূর্ণ হয়ে যায় গ্যালারি। কার্টুন ছাড়াও ছিল ইনস্টলেশন আর্ট। সেখানে ঝুলন্ত পানির বোতলে লেখা ছিল শহীদ মুগ্ধর নাম, ছিল এই পথপরিক্রমা নিয়ে ভিডিও।
আয়োজকেরা জানিয়েছেন, পত্রিকা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে আঁকা কার্টুন সংগ্রহ করে ৩০০ বেশি কার্টুন নিয়ে চলছে এই প্রদর্শনী, চলবে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত। প্রতিদিন বেলা ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দেখা যাবে।
প্রদর্শনীর আয়োজনে রয়েছে বাংলাদেশ কার্টুনিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, দৃক ও ইয়ার্কি।
ছবি: সাজ্জাদ হোসেন









