কর ফাঁকির অভিযোগে রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক কোচ কার্লো আনচেলত্তিকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড করেছেন স্পেনের আদালত। বর্তমান ব্রাজিলের কোচকে এক বছরের কারাদণ্ডের সাথে প্রায় চার লাখ ইউরো বা বাংলাদেশি মুদ্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার বেশি জরিমানা গুণতে হবে। ২০১৪ সালে রিয়াল মাদ্রিদের কোচ থাকাকালীন নিজের ইমেজ স্বত্ব থেকে আয়ের কর পরিশোধ না করার অপরাধে আনচেলত্তিকে দণ্ডিত করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
স্পেনের আইন অনুযায়ী সহিংস নয় এমন অপরাধে দুই বছরের কম কারাদণ্ড হলে অথবা যদি অভিযুক্তের পূর্বে কোনো অপরাধ রেকর্ড না থাকে, তাহলে সাধারণত তাকে জেল খাটতে হয় না। রাষ্ট্রপক্ষ আনচেলত্তির বিরুদ্ধে দুই দফা কর ফাঁকির অভিযোগে সর্বোচ্চ চার বছর নয় মাসের কারাদণ্ড চেয়েছিল।
আনচেলত্তির দুই দফায় ২০১৩-২০১৫ এবং ২০২১-২০২৫ সাল পর্যন্ত রিয়াল মাদ্রিদের কোচ ছিলেন। আদালত জানিয়েছে, ২০১৫ সালের অভিযোগ থেকে তাকে মুক্তি দেয়া হয়েছে। কারণ ওই সময়ে তিনি স্পেনে ছিলেন না, যার কারণে কর দেয়ার বাধ্যবাধকতা নেই। ২০১৫ সালের মে মাসে রিয়াল মাদ্রিদ তাকে বরখাস্ত করলে তিনি লন্ডনে চলে যান।
আনচেলত্তির দলের একজন সদস্য অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানান, তার আইনজীবীরা আদালতের রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন। ব্রাজিলের ফুটবল ফেডারেশন এখনও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
স্প্যানিশ প্রসিকিউটররা আনচেলত্তির বিরুদ্ধে ২০১৪ ও ২০১৫ সালে মোট এক মিলিয়ন ইউরো কর ফাঁকি দেয়ার অভিযোগ এনেছিলো। ২০২৪ সালের মার্চে প্রসিকিউটররা দাবি করেন, আনচেলত্তি বিভিন্ন শেল কোম্পানি ব্যবহার করে তার প্রকৃত আয় গোপন করেছিলেন। উদাহরণস্বরূপ, তিনি ভার্জিন আইল্যান্ডে একটি এমন কোম্পানি ব্যবহার করেন যার কোনো প্রকৃত আর্থিক কার্যক্রম ছিল না।
স্পেনের কর কর্তৃপক্ষের তদন্তের আওতায় আনচেলত্তি হচ্ছেন সর্বশেষ আলোচিত ফুটবল ব্যক্তিত্ব। এর আগে পর্তুগালের ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এবং স্পেনের দিয়েগো কস্তার মতো তারকারা অনেক সময় আদালতের বড় অঙ্কের জরিমানা দিয়ে মামলার নিষ্পত্তি করেছেন।
৬৬ বর্ষী আনচেলত্তি বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সফল কোচ। তিনি একমাত্র কোচ যিনি পাঁচবার চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছেন, তিনবার রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে এবং দুবার এসি মিলানের হয়ে। এছাড়াও তিনি ইংল্যান্ড, স্পেন, ইতালি, জার্মানি ও ফ্রান্স পাঁচ দেশের শীর্ষ লিগে শিরোপা জেতা একমাত্র কোচ। মে মাসে রিয়ালে দ্বিতীয় মেয়াদ শেষে ব্রাজিলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।









