তাইওয়ানকে স্বাধীন দেশ নয়, বরং নিজেদের অংশ মনে করে চীন। এ কারণে তাইওয়ান প্রণালী দিয়ে কানাডার যুদ্ধজাহাজ যাওয়ায় তীব্র সমালোচনায় মুখর হয়েছে চীন।তবে এর জবাব দিয়েছে তাইওয়ানও। এই প্রণালীর মালিকানা চীনের নয় এবং উত্তেজনা সৃষ্টির যে-কোনো প্রচেষ্টা বিশ্ব নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ বলে মন্তব্য করেছে দ্বীপটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
আজ (১৮ ফেব্রুয়ারি) মঙ্গলবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে ডয়েচে ভেলে জানিয়েছে, মার্কিন নৌবাহিনী ছাড়াও কানাডা, ব্রিটেন এবং ফ্রান্সের মতো মিত্র দেশগুলোর জাহাজ মাসে অন্তত একবার এই প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করে। এই দেশগুলো তাইওয়ান প্রণালীকে আন্তর্জাতিক জলপথ বলে মনে করে। ডোনাল্ড ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেয়ার পর গত সপ্তাহে মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজ প্রণালীটি অতিক্রম করে। এই অভিযান নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়িয়েছে দাবি করে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায় চীন।
যৌথ যুদ্ধ প্রস্তুতি টহল পরিচালনার মাধ্যমে চীন মার্কিন যুদ্ধজাহাজ চলাচলের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বলে জানিয়েছিল তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। তাইওয়ান অবশ্য জানিয়েছে, দেশগুলোর এই প্রণালী দিয়ে চলাচলের স্বাধীনতাই প্রণালীটির আইনি অবস্থান সুনিশ্চিত করে। চীন এই প্রণালীকে অভ্যন্তরীণ সমস্যা আখ্যা দিয়ে ভ্রান্ত ধারণা তৈরি করার চেষ্টা করছে বলেও দাবি তাইওয়ানের। তাইওয়ান বরাবরই দ্বীপটির আশেপাশে চীনা সামরিক তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছে।
দ্বীপটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাইওয়ান প্রণালীতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা কেবল তাইওয়ানের উদ্বেগের বিষয় নয়, বরং বিশ্বজুড়ে মুক্ত ও গণতান্ত্রিক দেশগুলোর জন্যও একটি সাধারণ উদ্বেগের বিষয় তাইওয়ান প্রণালীতে উত্তেজনা তৈরির জন্য কমিউনিস্ট সেনাবাহিনীর (চীনের) যেকোনো প্রচেষ্টা বিশ্ব নিরাপত্তার জন্য প্রকৃত হুমকি হয়ে দাঁড়াবে বলেও মনে করে দেশটি।
তাইওয়ানের এমন অবস্থান নিয়ে চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বা তাইওয়ান বিষয়ক দপ্তর এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। সোমবার সকালে চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এর আগের ২৪ ঘণ্টায় চীনের কর্মকাণ্ডের দৈনিক আপডেটে জানিয়েছে। তাইওয়ানের দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং প্রণালীতে ৪১টি চীনা সামরিক বিমান এবং নয়টি জাহাজ অবস্থান করার কথা জানিয়েছে চীন। তাইওয়ান প্রণালী দিয়ে যুদ্ধজাহাজ চালানোর জন্য কানাডার তীব্র নিন্দাও জানিয়েছে দেশটি।
পিপলস লিবারেশন আর্মির ইস্টার্ন থিয়েটার কমান্ড এক বিবৃতিতে বলেছে, কানাডার কর্মকাণ্ড ইচ্ছাকৃত ঝামেলা সৃষ্টি করেছে এবং প্রণালীটিতে শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। চীনা এবং তাইওয়ান দুই সরকারের পক্ষ থেকেই জাহাজটিকে অটোয়া নামে চিহ্নিত করেছে। রোববার তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে জাহাজটি উত্তর দিকে যাত্রা করেছিল এবং তাইওয়ানের বাহিনীও এর ওপর নজর রেখেছিল।
তাইওয়ানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই জাহাজের যাত্রাকে স্বাগত জানিয়ে রোববার বলেছে, কানাডা আবারও তাইওয়ান প্রণালীর স্বাধীনতা, শান্তি এবং উন্মুক্ততা রক্ষার জন্য দৃঢ় পদক্ষেপ নিয়েছে এবং তাইওয়ান প্রণালীতে আন্তর্জাতিক জলসীমার বিষয়ে তাদের দৃঢ় অবস্থান প্রদর্শন করেছে। চীনের প্রতিক্রিয়ার ব্যাপারে ক্যানাডার সামরিক বাহিনী এখনও কোনো মন্তব্য করেনি।









