ব্র্যাকে অনুষ্ঠিত হলো ব্যবহৃত পুরোনো পণ্যের মেলা। এই মেলায় শাড়ি, পাঞ্জাবি, গেঞ্জি, গহনার মত নিত্য ব্যবহার্য পণ্য যেমন ছিল, তেমনি ছিল বিস্মৃত হয়ে যাওয়া এক সময়ের তুমুল জনপ্রিয় ক্যাননের এই-১ মডেলের ফিল্ম ক্যামেরা। ছিল ডিজেআই ওজমো স্মার্টফোন গিম্বলের মত পণ্যও।
মানুষের ব্যবহারের জন্য যত বেশি পণ্য উৎপাদন করতে হয়, ততবেশি নিঃসরিত হয় কার্বন। ত্বরান্বিত হয় পরিবেশ বিপর্যয়। তাই বায়ুমণ্ডলে কার্বন নিঃসরণ কমাতে পুরোনো পণ্য, যা এখন আর ব্যবহার করা হচ্ছে না, সেগুলোকে পুনঃব্যবহারে উৎসাহিত করতেই ব্র্যাকের নিজস্ব কর্মীদের নিয়ে করা হয় এই আয়োজন।
পুরনো দিনের গান শোনার একটি যন্ত্র বেজে চলেছে মেলায়। কারো কাছে মনে হতে পারে মেলা উপলক্ষ্যে গান শোনার জন্যই এই যন্ত্রটি এখানে আনা হয়েছে। ঘিরে থাকা মানুষজন এটাকে গ্রামোফোন হিসেবেই চিহ্নিত করছিল। কিন্তু বিক্রেতা জানালেন, এর নাম আসলে ‘টার্নটেবিল’।
ব্র্যাকের কনস্ট্রাকশন বিভাগের অ্যাসোসিয়েট অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুদ জানালেন, ১৯৯১ সালে তিনি কিনেছেন এই গান শোনার যন্ত্রটি। এখনো এটি বেজেই চলেছে। সাথে এনেছেন টেপরেকর্ডার এবং ক্যামেরা। এগুলোও বেশ পুরনো। এ সবই তিনি এনেছেন মেলায় বিক্রির জন্য।
পুরনো পণ্য নিয়ে ব্র্যাকের সামনের চত্বরে ৩১ জানুয়ারি ও ১ ফেব্রুয়ারি বসে ‘ডিক্লাটার মেলা’। দুই দিনের মেলায় প্রায় সাড়ে তিন হাজার পণ্য বিক্রির জন্য রাখা হয়। মেলা ঘুরে দেখা যায়, শাড়ি খুব ভালো বিক্রি হচ্ছে, ছেলেদের কুর্তা-পাঞ্জাবি, ল্যাপটপ, আইপ্যাড-এগুলোও এখানে বিক্রি হয়েছে। মেলার আয়োজকরা আশা করছেন, আজকের মধ্যে স্টকের ৮০শতাংশ পণ্য বিক্রি হয়ে যাবে। মেলায় অন্যান্য পণ্যের মধ্যে ছিল, ক্যাসেট প্লেয়ার, টেপ রেকর্ডার, ল্যাপটপ, মোবাইল, রেডিও, আইপ্যাড, ইনডাকশন চুলা, চামড়ার ব্যাগ, টার্নটেবিল, পিতলের বদনা, ব্লেজার, স্যুট, লেহেঙ্গা-শাড়ি-টপ-ঝুলসহ বিয়ের পুরো একটি সেট, বাঁশি প্রভৃতি।
ব্র্যাকের জলবায়ু পরিবর্তন কর্মসূচির পরিচালক ডঃ মোঃ লিয়াকত আলী বলেন, পরিবেশ রক্ষা এখন বৈশ্বিক উদ্বেগের বিষয়। যেহেতু মানুষ এখন জলবায়ু পরিবর্তন এবং সম্পদের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে আরও সচেতন হয়ে উঠেছে, এই আয়োজনের মাধ্যমে আমরা ন্যূনতম সম্পদ ব্যবহারকে উৎসাহিত করছি। পণ্যের পুনঃব্যবহার একদিকে যেমন প্রকৃতিতে বর্জ্য কমায়, অন্যদিকে পণ্য উৎপাদনে সৃষ্ট গ্রীনহাউস গ্যাস নিঃসরণ হ্রাস করে।
মেলার আয়োজকরা জানান, একটি ডেনিম প্যান্ট তৈরিতে প্রায় সাড়ে ৩৩ কিলোগ্রাম কার্বন নিঃসরণ হয়, যা ১১১ কিলোমিটার গাড়ি চালানো বা ২৪৬ ঘণ্টা বড় পর্দার টিভি চললে যে যে কার্বন নিঃসৃত হবে তার সমান। একটি ফুলহাতা সুতির শার্ট উৎপাদনে কার্বন নিঃসরণের মাত্রা পৌনে ১১ কেজি। একটি শাড়ি তৈরিতে কার্বন ফুটপ্রিন্ট ১৫ কিলোগ্রামের বেশি।
ব্র্যাকের প্রধান কার্যালয়ের কর্মীদের জন্য প্রথমবারের মতো এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়। ব্র্যাকের কার্বন ফুটপ্রিন্ট রিডাকশন ম্যানেজমেন্ট কমিটি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ‘ব্র্যাক ডিক্লাটার মেলা’ আয়োজন করা হয়। এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য হলো ব্র্যাক কর্মীদের পণ্য পুনঃব্যবহারে অনুপ্রাণিত করা যা কার্বন ফুটপ্রিন্ট কমাতে অনেকাংশে অবদান রাখতে পারে।







