সুতা আমদানিতে আরোপিত শুল্ক অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে গার্মেন্টস মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ গার্মেন্টস প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং নীট পোশাক খাতের মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ কনভেনশনাল ও নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ)। সংগঠন দুটির দাবি, শুল্ক আরোপের ফলে দেশের রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক ও নিটওয়্যার খাত মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বলেন, দেশীয় স্পিনিং মিলগুলোকে সুরক্ষা দেওয়ার নামে সুতা আমদানিতে শুল্ক আরোপ করা হলেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে সরাসরি গার্মেন্টস ও নিট পোশাক শিল্পে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের প্রতিযোগী সক্ষমতা কমে যাবে।
বিকেএমইএর সভাপতি মোহম্মদ হাতেম বলেন, গার্মেন্টস ও নিট পোশাক শিল্প ইতিমধ্যেই বৈশ্বিক মন্দা, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং দেশীয় গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে চাপে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কাঁচা সুতার ওপর শুল্ক আরোপ শিল্পের জন্য আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।
সংবাদ সম্মেলনে নেতারা অভিযোগ করেন, রপ্তানিকারকদের সঙ্গে আলোচনা চলাকালীন ট্রেড ও ট্যারিফ কমিশন একতরফাভাবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাঁদের মতে, এ সিদ্ধান্ত বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) সুরক্ষা চুক্তির সঙ্গেও সাংঘর্ষিক।
বিজিএমইএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম রহমান বলেন, নিটওয়্যার খাত দেশের মোট পোশাক রপ্তানির প্রায় ৫৫ শতাংশ বা প্রায় ২৭ বিলিয়ন ডলার অবদান রাখে। এই খাতে কাঁচা সুতার ওপর শুল্ক আরোপ করা হলে আন্তর্জাতিক বাজারে পোশাকের দাম বাড়বে এবং রপ্তানি অর্ডার হারানোর ঝুঁকি তৈরি হবে।
নেতারা আরও জানান, স্থানীয় স্পিনিং মিলগুলো বর্তমানে প্রয়োজনীয় সুতার মাত্র ৬০ শতাংশ উৎপাদন ও ব্যবহার করতে পারছে। উৎপাদনে ঘাটতি থাকা অবস্থায় শুল্ক আরোপ করলে পোশাক শিল্পের খরচ আরও বাড়বে এবং ক্রেতারা বিকল্প দেশমুখী হতে পারে।
সংবাদ সম্মেলন থেকে সরকারের কাছে তিন দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো-কাঁচা সুতার ওপর আরোপিত শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার, স্পিনিং মিলগুলোকে সরাসরি প্রণোদনা বা বিশেষ সুবিধা দেওয়া এবং গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করে উৎপাদন খরচ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া।
বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ নেতারা বলেন, স্থানীয় মিলগুলো যদি আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে সময়মতো সুতা সরবরাহ করতে সক্ষম হয়, তবে আমদানির প্রয়োজন হবে না। তবে শিল্পের অস্তিত্ব রক্ষায় প্রয়োজন হলে কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন বলেও জানান তাঁরা।









