ইরানের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় কাতারে চারটি টাইফুন যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে যুক্তরাজ্য। যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ার ফোর্স (আরএএফ) তাদের এফজিআর৪ টাইফুন জেটগুলো কাতারে পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র সংঘাতের শঙ্কার প্রেক্ষাপটে।
সংবাদমাধ্যম এয়ারফোর্স টেকনোলজি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে প্রতিরক্ষামূলক উদ্দেশ্যে এসব যুদ্ধবিমান পাঠানো হয়েছে। এটি যুক্তরাজ্য–কাতার প্রতিরক্ষা নিশ্চয়তা চুক্তির অংশ।
ইরানের বিভিন্ন স্থানে চলমান বিক্ষোভ দমন করতে গিয়ে দেশটির সরকারের কঠোর অভিযান প্রাণঘাতী রূপ নেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখান এবং হস্তক্ষেপের হুমকি দেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই অস্থির পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবারও সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ইরান কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটির মতো মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে।
এদিকে, সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান বিন জাসিম আল থানি মধ্যপ্রাচ্যে আত্মতুষ্টি পরিহারের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, গাজায় উত্তেজনা কমার মতো ইতিবাচক অগ্রগতি হলেও তা পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতার নিশ্চয়তা নয়। ইরান ইস্যুতে উত্তেজনা প্রশমিত করাই সবচেয়ে উত্তম পথ বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর এসেছে, যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে আব্রাহাম লিংকন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপসহ একটি বড় নৌবহর পাঠিয়েছে। এতে এফ-১৫ ঈগল যুদ্ধবিমানও প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে।
টাইফুন যুদ্ধবিমানের সক্ষমতা কী?
ইউরোফাইটার টাইফুন বর্তমানে যুক্তরাজ্যের আকাশযুদ্ধ সক্ষমতার মূল ভরসা। ড্রোন প্রতিরোধ (সি-ইউএএস) থেকে শুরু করে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা পর্যন্ত বহুমাত্রিক প্রতিরক্ষা দিতে সক্ষম এই যুদ্ধবিমান।
২০২৪ সালের এপ্রিলে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র বিনিময়ের সময় ইরানি তৈরি ড্রোন ভূপাতিত করে টাইফুন যুদ্ধবিমান তাদের সক্ষমতার প্রমাণ দেয়। মাল্টিরোল এই ফাইটার জেট এএসআরএএএম ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপে সক্ষম এবং হেলমেট-মাউন্টেড সিস্টেমের মাধ্যমে একাধিক ধীরগতির লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত ও অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে পারে।
এ ছাড়া ইসিআরএস এমকে-২ রাডার আপগ্রেডের মাধ্যমে আকাশ ও স্থল উভয় ক্ষেত্রেই একসঙ্গে একাধিক লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত, চিহ্নিত ও অনুসরণ করার সক্ষমতা আরও বাড়বে।
উল্লেখ্য, কাতারের পাইলটরা ২০১৮ সাল থেকে যুক্তরাজ্যের আরএএফ কনিংসবিতে অবস্থিত ১২ স্কোয়াড্রনের সঙ্গে একীভূতভাবে প্রশিক্ষণ ও অপারেশনাল অভিজ্ঞতা অর্জন করছেন। কাতার ২৪টি টাইফুন যুদ্ধবিমান কেনার চুক্তি করেছে, যার সরবরাহ শুরু হয়েছে ২০২২ সালে।









