সিলেট থেকে: নানা আলোচনা-সমালোচনার মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) দ্বাদশ আসর। টুর্নামেন্ট মাঠে গড়ানোর আগের দিন দলের মালিকানা ছেড়ে দেয়া থেকে শুরু করে কোচের অনুশীলন বয়কটের মতো নাটকীয়তা দিয়ে শুরু হতে চলেছে এবারের আসর। অধিনায়কদের নিয়ে হয়নি ফটোসেশন। এমনকি এখনও পর্যন্ত উন্মোচন হয়নি ট্রফি। ফলে সবকিছু মিলিয়ে টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই তৈরি হয়েছে গুমোট পরিবেশ।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুক্রবার পর্দা উঠছে এবারের আসরের। উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে সিলেট টাইটানস ও রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। আর দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হবে চট্টগ্রাম রয়্যালস ও নোয়াখালী এক্সপ্রেস। টুর্নামেন্টটি সুন্দরভাবে পরিচালনার বারবার আশ্বাস দেয়া হয়েছিল বেশ আগে থেকেই। কিন্তু বাস্তবে সেসবের প্রতিফলন ঘটেনি।
আসরের উদ্বোধনী ম্যাচ শুরু হওয়ার কথা ছিল দুপুর ২টায়। হওয়ার কথা ছিল বড় আকারের উদ্বোধনী আয়োজন। কিন্তু সেখানেও পরিকল্পনার পরিবর্তন আনে বিসিবি। কাটছাঁট করে প্রথম ম্যাচের আগে ১৫ মিনিটের কিছু আনুষ্ঠানিকতা থাকবে। দুই ম্যাচের মাঝবিরতিতে রাখা হয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
এছাড়া আগামী পাঁচ মৌসুমের জন্য ছয়টি ফ্র্যাঞ্চাইজি চূড়ান্ত করা হয় এবারের বিপিএলের। দীর্ঘ ১২ বছর পর আবারও খেলোয়াড়দের নিলাম প্রক্রিয়া ফিরেছে। তবে নিলামের আগেই বিতর্ক দানা বাঁধে। গত আসরে ফিক্সিংয়ের অভিযোগে বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়কে বাদ দেয়া হয়।
এছাড়া এবারের মৌসুম ঘিরে বিসিবি আগেই জানিয়েছিল পেমেন্টের বিষয়ে কঠোরতার কথা। অংশগ্রহণ ফি ও ব্যাংক গ্যারান্টি দেয়ার ওপর তারা জোর দেয়। আগের আসরগুলোতে এসব খুব একটা মানা হতো না। কিন্তু এতো কড়াকড়িতেও খুব একটা লাভ হয়নি।
বৃহস্পতিবার সকালে বিসিবি বরাবর চিঠি দিয়ে নিজেদের অপারগতার জানান চট্টগ্রাম ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিক কাইয়ুম রশিদ। তারা জানিয়ে দেয়, দল পরিচালনা করা তাদের পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছে না। এরপরই জরুরি সিদ্ধান্তে দলটির মালিকানা গ্রহণ করে বাংলাদেশ ক্রিকেট (বিসিবি) বোর্ড।
বৃহস্পতিবার দুপুরেও ঘটেছে আরেক নাটকীয় কাণ্ড। নোয়াখালী এক্সপ্রেসের কোনো এক কর্মকর্তার সঙ্গে বাগবিতণ্ডার এক পর্যায়ে অনুশীলন বয়কট করে চলে যান দলের প্রধান কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন ও সহকারী কোচ তালহা জুবায়ের। পরে জানা যায়, অনুশীলন করার জন্য মালিকপক্ষ থেকে পর্যাপ্ত বল সরবরাহ করা হয়নি। এই নিয়ে একজন কর্মকর্তার সঙ্গে তর্কে লিপ্ত হয়ে মাঠ ছাড়েন সুজন। যদিও অভিমান ভেঙে সন্ধ্যায় আবারও দলের সঙ্গে যোগ দেন তিনি।
পাঁচ বছরের জন্য ছয় ফ্রাঞ্চাইজি দল গঠন করা হলেও এসব বাস্তব চিত্র প্রশ্নের মুখে- দলগুলো আসলে কতবছর টিকবে।
এবারের আসরে বিসিবির দুর্নীতি দমন বিভাগ ও নবগঠিত ইন্টেগ্রিটি ইউনিটকেও ব্যস্ত সময় হয়তো কাটাতে হবে। কারণ আগের আসর নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল স্পট ফিক্সিংয়ের বিষয়টি। যে কারণে বিসিবির ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের প্রধান অ্যালেক্স মার্শালের সুপারিশে ৯ জন ক্রিকেটারকে রাখা হয়েছে এবারের বিপিএলের বাইরে। এই নিয়েও তো মাসখানিক আগে কম জলঘোলা হয়নি।
তাই এবারের আসরকে স্বচ্ছ রাখতে দলগুলির সঙ্গে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের কর্মকর্তাদের সংযুক্ত রাখা হচ্ছে। সঙ্গে বিসিবির দুর্নীতি দমন বিভাগ ও নবগঠিত ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের নজরও থাকবে মাঠের খেলায়।
তবে এতো এতো বিতর্কিত সিদ্ধান্তের মাঝে সাধুবাদ পাওয়ার মতোও একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি। ভারত-শ্রীলঙ্কার মাটিতে হতে চলা বিশ্বকাপকে মাথায় রেখে সিলেট ও চট্টগ্রামে বেশি ম্যাচে রেখেছে আয়োজকরা। তাতে মিরপুরের তুলনায় স্পোর্টিং উইকেটে খেলে বিশ্বকাপের প্রস্তুতিটা কিছুটা হলেও ভালোভাবে সারতে পারবে। এবার সময়ই বলে দেবে পুরো টুর্নামেন্ট কেমন যাবে আর আসন্ন বিশ্বকাপে কেমন খেলবে বাংলাদেশ।









