সিলেট থেকে: বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) দ্বিতীয়পর্ব গড়ানোর কথা ছিল চট্টগ্রামে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে খেলা সরিয়ে প্রথমপর্বের সিলেটেই গড়াচ্ছে। হঠাৎ পরিবর্তনে দ্বিতীয়পর্বে নিরাপত্তা দিতে অপারগতা জানিয়েছিল সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ। বিসিবির কাছে চিঠিও পাঠায় তারা। ক্রীড়া উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের উদ্যোগে বিষয়টির সমাধান হয়েছে। পূর্ণ নিরাপত্তা বহাল থাকবে সিলেটে বাড়তি ম্যাচগুলোতেও।
রোববার অপারগতার কথা জানিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) চিঠি দেয় সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ। মূলত জাতীয় নির্বাচনের ব্যস্ততা এবং সর্বস্তরের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাড়তি চাপ নিতে হচ্ছে পুলিশকে। সিলেট বিভাগের পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী স্বাক্ষরিত চিঠিতে শহরের আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বিপিএলের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে পুলিশি নিরাপত্তা দেয়া সম্ভব হবে না উল্লেখ করে বিসিবিকে বিকল্প নিরাপত্তার ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানানো হয়।
বিষয়টির দ্রুতই সমাধান হয়ে গেছে। সোমবার দ্বিতীয়পর্বের খেলাও গড়িয়েছে। নির্বাচনী ব্যস্ততার কারণে কিছু পুলিশ সদস্যকে সরিয়ে নেয়া হবে। তবে যে সংখ্যক পুলিশ সদস্যকে সরিয়ে নেয়া হবে, একই সংখ্যক আনসার মোতায়েন করা হবে। সিলেট বিভাগের পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী চ্যানেল আই অনলাইনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী বলেছেন, ‘আমাদের এখন আসলে নির্বাচনের প্রায়োরিটি, এজন্য তাদেরকে (বিসিবিকে) আমরা জানিয়েছিলাম যে, অন্য কোনভাবে যদি ম্যানেজ করা যায় তাহলে আমাদের ল-অ্যান্ড-অর্ডারটা এবং নির্বাচনের কাজগুলো ভালোমতো করতে পারব। এটা আরকি। এটা সমাধান হয়েছে, কিছু আনসার নিয়োগ করা হবে। এরকম এটা দিয়ে আমরা সমন্বয় করে করব আরকি।’
‘আমরা যে পরিমাণ সদস্য সরিয়ে নিবো, সেই পরিমাণ আনসার সদস্য দেয়া হবে। আমাদেরও থাকবে, আমাদের একেবারে সরিয়ে নেয়া হবে না। এটা দিয়ে আমরা চালিয়ে নিবো আরকি। এখন আমাদের উপর আসলে একটু চাপ হয়ে যাচ্ছে। ৬টা ম্যাচের জায়গায় আমাদের ২ দিন খেলাটা বন্ধ ছিল, কিন্তু আমাদের সদস্য মোতায়েনের কথা ছিল ৮ দিন। আরও ৬ দিন বাড়ল। এটা আমাদের এখন নির্বাচনের যে ডিউটি, নির্বাচন কেন্দ্রিক সেই ডিউটিগুলোতে একটু হলেও প্রভাব পড়ছে। এজন্য আমরা বলছি আরকি। যাইহোক ওটা ম্যানেজ হয়েছে।’
সিলেট বিভাগের পুলিশ কমিশনার জানালেন খেলা চলতে কোন বাধা নেই, সোমবার বিকেল থেকেই বিপিএলের নিরাপত্তায় আনসার নামানো হবে। বলেছেন, ‘খেলা চলাতে আপাতত বাধা নাই। এখন আনসার মোতায়েন হবে, তারা বলছে আজকে বিকাল থেকে শুরু করবে। আমি যতটুকু জেনেছি। আমরা সমন্বয় করে এটা বাকি সময়টুকু পার করে নিব।’
অবশ্য খেলোয়াড়দের আনা নেয়ার প্রটোকল ও আবাসন নিরাপত্তার কাজ চালিয়ে নেবে পুলিশ। কমিশনার বলেছেন, ‘খেলোয়াড়দের আনা-নেয়ার প্রটোকল, খেলোয়াড়দের আবাসন নিরাপত্তা- এগুলো যথারীতি আমরা করে যাবো।’
‘এটা আগেই করা যেত। এখন হচ্ছে যে আমাদের সাথে, আমরা কিন্তু জানাইছি তাদেরকে, আগেই জানাইছি যে দেখেন আমরা এত দীর্ঘ সময় পারব না এটা। নির্বাচন সামনে। তারা যেকোনো কারণেই হোক এই ব্যাপারে আসলে, বিষয়টাকে আগে গুরুত্ব দিলেই এই সমস্যাটা সমাধান হয়ে যেত। মাঝখানে চার-পাঁচ দিন সময় ছিল। যাইহোক, শেষ মুহূর্তে আমাদের ক্রীড়া উপদেষ্টার হস্তক্ষেপে এটার একটা সমাধান হয়েছে।’ যোগ করেন আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী।
বিসিবি পরিচালক ও বিপিএল গর্ভনিং কমিটির সদস্য ইফতেখার রহমান মিঠুও চ্যানেল আই অনলাইনকে খেলা চলতে কোন বাধা নেই বলে নিশ্চিত করেছেন। চিঠির বিষয়ে বলেছেন, ‘আপনারা যা শুনেছেন তা সত্য। তাদের (পুলিশ) সমস্যা হচ্ছে এত পুলিশ দিয়ে মোতায়েন করা। এটা নিয়ে কোন জটিলতা নেই। খেলা চলছে, তারাও সাপোর্ট দিচ্ছে। যে পরিমাণ পুলিশ মোতায়েনের কথা ছিল সেটাই আছে।’
‘মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে কথা হয়েছে এবং সেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছে খেলা যেভাবে হচ্ছে ওভাবে হবে। বর্তমান নির্বাচনী পরিবেশের কারণে এবং বিপিএল মিলে বিষয়টা একটু কঠিন তাদের (পুলিশ) কাছে। এখন বিষয়টা ওনারা কীভাবে ম্যানেজ করবে ওটা ওনাদের ভেতরকার বিষয়। আমাদের যেটা দরকার ছিল সেটা ওনারা দিচ্ছে।’
সিলেটে ২ জানুয়ারি বিপিএলের শেষ ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল। খালেদা জিয়ার মৃত্যু ঘিরে শোকের পরিস্থিতিতে দুদিন খেলা বন্ধ রাখা হয়। তাতে চট্টগ্রাম থেকে খেলা সরিয়ে নিতে হয়েছে বিপিএল গর্ভনিং কাউন্সিলকে। যে কারণে সিলেটে ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত গড়াবে চট্টগ্রাম পর্বের ম্যাচগুলো। সূচি অনুযায়ী এরপরের ম্যাচগুলো ১৫ জানুয়ারি থেকে ২৩ জানুয়ারি পর্যন্ত গড়াবে ঢাকায়।









