ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে ৭ উইকেট নিয়ে টি-টুয়েন্টিতে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারীর বিশ্বরেকর্ড তালিকায় নাম লিখিয়েছেন তাসকিন আহমেদ। ঢাকার দেয়া লক্ষ্য টপকাতে নেমে এনামুল হক বিজয় ও রায়ান বুর্লের ফিফটিতে ৭ উইকেটে জিতেছে তার দল দুর্বার রাজশাহী। পরপর দুই ম্যাচে ফিফটি পেয়েছেন বিজয়।
মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার আসরের পঞ্চম ম্যাচে টসে জিতে আগে ব্যাটে নামে ঢাকা। নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৯ উইকেটে ১৭৪ রানে থামে দলটি। জবাবে ৩ উইকেট হারিয়ে ১১ বল হাতে রেখে জয়ের বন্দরে নোঙর করে রাজশাহী। প্রথম ম্যাচে ফরচুন বরিশালের কাছে হারের প্রথম জয় পেল রাজশাহী। অন্যদিকে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে হার দেখল ঢালিউড নায়ক সাকিব খানের দল ঢাকা।
ঢাকার বিপক্ষে ১৯ রানে ৭ উইকেট নিয়েছেন তাসকিন। বিপিএলের ইতিহাসে যা রেকর্ড। ২০২০ আসরে মোহাম্মদ আমির খুলনার হয়ে রাজশাহী রয়্যালসের বিপক্ষে ১৭ রান খরচায় ৬ উইকেট নিয়ে আগের রেকর্ডটি দখলে রেখেছিলেন।
টি-টুয়েন্টিতে সবধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৭ উইকেট শিকারের ঘটনায় এটি তৃতীয়। তাসকিনের আগে ২০২৩ সালে মালয়েশিয়ার সিরাজুল ইদ্রিস চীনের বিপক্ষে ৮ রান খরচায় ৭ উইকেট নেন। ২০১৯ সালে ইংলিশ ভাইটালিটি ব্লাস্টে লিচেস্টারশায়ারের হয়ে বার্মিংহ্যাম বিয়ারসের বিপক্ষে ১৮ রানে ৭ উইকেট নেন নেদারল্যান্ডসের কলিন একেরম্যান।
বিপিএলে দ্বিতীয়বার ৫ বা তার বেশি উইকেট শিকার করলেন তাসকিন। ২০১৬ আসরে রাজশাহী কিংসের হয়ে চিটাগং ভাইকিংসের বিপক্ষে ৩১ রানে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন।
বিপিএলের উইকেট সংখ্যায় দুইয়ে এসেছেন তাসকিন। ৮০ ম্যাচ খেলে তার উইকেট সংখ্যা ১১২। উপরে আছেন কেবল সাকিব আল হাসান। ১১৩ ম্যাচে ১৪৯ উইকেট তুলে শীর্ষে টাইগার অলরাউন্ডার। ৮৮ ম্যাচে ১১০ উইকেট নিয়ে তিনে পেসার রুবেল হোসেন।
তাসকিনের আলো ছড়ানো ম্যাচে ঢাকার হয়ে ব্যাটে ভালো করেছেন শাহাদাত হোসেন দীপু ও স্টিফেন এসকিনাজি। ৪১ বলে ৫০ রান করেন দীপু। এসকিনাজি ২৯ বলে ৪৬ রান করেন। শুভম রাঞ্জানে ১৩ বলে ২৪ রান এবং থিসারা পেরেরা ৯ বলে ২১ রান করেন।
রাজশাহীর হয়ে তাসকিনের ৭ উইকেটের পাশাপাশি বাকি দুটি উইকেট নেন মোহর শেখ ও হাসান মুরাদ।
জবাবে নেমে রাজশাহীর শুরুটা ভালো হয়নি। ৩১ রানে দুই টপঅর্ডার ব্যাটারকে হারায় দলটি। ইয়াসির আলী ভালো শুরু করে ইনিংস লম্বা করতে পারেননি। ২০ বলে ২২ রান করে ফিরে যান।
৭৩ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর আর ফিরে তাঁকাতে হয়নি রাজশাহীকে। বিজয় ও বুর্লের ১০৪ রানের অপরাজিত জুটিতে জয়ের বন্দরে নোঙর করে তারা। বিজয় ৯ চার ও ৩ ছক্কায় ৪৬ বলে ৭৩ রানে, ৫ চার ও ৩ ছক্কায় বুর্ল করেন ৩৩ বলে ৫৫ রানে অপরাজিত থাকেন।
ঢাকার হয়ে একটি করে উইকেট নেন মোস্তাফিজুর রহমান, মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধ ও আলাউদ্দিন বাবু।









